রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Match 1,000: Japan and Tunisia handed World Cup honour no two nations have ever received before | Football News চট্টগ্রামে ককটেলসহ নিষিদ্ধ যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার Samantha Ruth Prabhu Expecting First Baby?; Dhanush And Mrunal Thakur Part Ways After Months Of Dating? | Bollywood News কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল: দৌলতপুরে আটক ১ বেনজীর আহমেদকে শিগগির ফেরত পাঠাবে আমিরাত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ চক্রের ৬ সদস্য আটক ​৩০ বছর ভিক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখা সন্তানও চলে গেল ঈদে, একাকী আছিয়ার নতুন সম্বল ‘আছিয়া স্টোর” Explained: Why Harbhajan Singh and S Sreesanth are feuding again – Full timeline | Off the field News সিএমপি’র কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ০১(এক) জন আসামী গ্রেফতার সিএমপির কর্ণফুলী থানার পুলিশের অভিযানে জিআর সাজা পরোয়ানাভূক্ত ০১(এক) আসামী গ্রেফতার

সাবমেরিন কেবলে বাংলাদেশের সাহসী যাত্রা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮২ সময় দেখুন
সাবমেরিন কেবলে বাংলাদেশের সাহসী যাত্রা


বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের পেছনে একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের গল্প রয়েছে, যা খুব কমই আলোচনায় আসে। বৈদেশিক ঋণ বা বড় ধরনের সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে, দেশের সাবমেরিন কেবল অবকাঠামো গড়ে ওঠেছে মূলত নিজস্ব আয়ে। এই কাজটি করেছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পরপরই বিএসসিপিএলসি SEA-ME-WE-4 কেবলের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে সক্ষমতা ছিল মাত্র ৭.৫ জিবিপিএস। তবে দেশীয় টেলিকম অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের কাছে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করে যে আয় আসতে থাকে, তা শুধু দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবেও কাজে লাগে। ফলে জাতীয় কোষাগারের ওপর আলাদা চাপ না দিয়েই বিএসসিপিএলসি ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়ানোর পথ তৈরি করে।

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একক কেবলের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে নিজস্ব আয় পুন:বিনিয়োগ করে বিএসসিপিএলসি SEA-ME-WE-5 কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা এক লাফে কয়েক হাজার জিবিপিএসে পৌঁছে যায় এবং বিকল্প সংযোগের সুবিধা তৈরি হয়। এর সরাসরি সুফল পান গ্রাহকরা ইন্টারনেটের মূল্য কমে, গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ে।

এই একই স্ব-অর্থায়নের নীতিতেই এগোচ্ছে সর্বশেষ প্রকল্প SEA-ME-WE-6। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালু হওয়ার লক্ষ্য থাকা এই কেবল বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড নতুন সক্ষমতা যোগ করবে। কক্সবাজার থেকে সিঙ্গাপুর, মুম্বাই ও ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংযোগ দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পেও বড় ধরনের সরকারি ঋণ বা সার্বভৌম গ্যারান্টি নেয়া হয়নি।

এই অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হয়েও সুশাসন ও বাণিজ্যিক দক্ষতা থাকলে কৌশলগত ডিজিটাল অবকাঠামো স্বনির্ভরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি ডিজিটাল স্বাধীনতা ও ডেটা সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করে, কারণ দেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ দেশের হাতেই থাকে।

চতুর্থ সাবমেরিন কেবলের পরিকল্পনার সময়ে এসে দাঁড়িয়ে, বিএসসিপিএলসির এই পথচলা দেখিয়ে দেয় ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়, এটি আর্থিক শৃঙ্খলা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল। নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে, এই প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের ডিজিটাল সংযোগের মেরুদণ্ড গড়ে তুলেছে।

লেখক: টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom