বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নে সংসদে উত্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান Salman Khan Hints Karan Johar Was Scared Of Him During His 2008 Fight With Shah Rukh Khan | Bollywood News ‘Got to look at luggage weight’: Shai Hope jokes after winning third Player of the Match award during this India tour | Cricket News ‎স্ক্যামারের ভিডিও ধারন করায় সাংবাদিকের  বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা,কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ভূঞাপুরে মানববন্ধন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ ড. ইউনূসকে হেনস্তায় বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‘কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ট্যাবুমুক্ত করতে হবে’ লক্ষ্মীপুরে লাইসেন্সবিহীন শিশু খাদ্য জব্দ, বেকারির ক্ষতিকর কেমিক্যাল ধ্বংস হারানো বা চুরি হওয়া ফোন খুঁজে পাওয়ার উপায় বাঁশখালীতে নিট যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে EARN প্রকল্পের উদ্যোগ

[১] অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী খুন, অভিভাবকরা শঙ্কিত

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ২৬৩ সময় দেখুন
[১] অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী খুন, অভিভাবকরা শঙ্কিত


[১] অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী খুন, অভিভাবকরা শঙ্কিত

আকিদুল ইসলাম : [২] গত রোববার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিমা হায়াৎ অ্যানি নামের একটি মেয়ের মৃত দেহ উদ্ধার করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সিডনির প্যারামাট্টার পেনান্ট হিলস রোডের অ্যাপার্টমেন্টে অ্যাসিড ভর্তি বাথটাবে মৃত অবস্থায় অ্যানিকে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিবাদের ফলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী একজন পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী অ্যানি দীর্ঘদিন ধরে ওই পাকিস্তানির সঙ্গে বাস করছিলেন। অ্যানিকে খুন করার পর তার লাশ বাথ টবে এসিডের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিলো। পুলিশের ধারণা, খুনের আলামত ধ্বংস করতে মৃতদেহটি রাসায়নিকের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়।

[৩] অ্যানির নৃশংস খুনের পর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নিজেদের টিনএজ সন্তান নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশিই এখন দেশটিতে লিভিং টুগেদার করছেন। সেখানে সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলেই তারা তাদের পছন্দমতো সঙ্গী বেছে নিয়ে মা-বাবা থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারেন। এই প্রবণতা এখন বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় লিভিং টুগেদার আইনগতভাবে বৈধ।

[৪] অ্যানির ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লেও আইনগত কারণেই সে দেশের অভিভাবকরা অসহায়, নিরুপায়। ৪ বছর আগে সারাহ নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণী তার ভিনদেশি বয়ফ্রেন্ডের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। ১৯ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী আনিমা হায়াৎ অ্যানির নির্মম ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি অভিভাবকরা তাদের আতঙ্কের কথা বলেছেন।

[৫] অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাদের সন্তানদের প্রতি আরো যত্নবান হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের পর তাদেরে কন্ট্রোল করা সহজ নয়। তাছাড়া বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, মন্ত্রী, এমপিদেরও সচেতন হওয়া উচিত বলে। তাদের সন্তানদের বিদেশে পড়ালেখার জন্য পাঠিয়ে অবৈধ বেহিসেব টাকাপয়াসা দেওয়ার ফলে তারা দামি গাড়ি ক্রয় করে বিলাসবহুল এ্যাপার্টমেন্টে ছেলে- মেয়েদের নিয়ে লিভ টুগেদার করে। যার ফলে তাদের সন্তানেরা বিপদগামি হয় এবং প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।’

[৬] সাংস্কৃতিক সংগঠন আমাদের কথার প্রধান পূরবী পারমিতা বোস জানান, এখনো আমাদের বাংলাদেশিরা এতোটা আধুনিক হয়নি যে লিভ টুগেদারকে সমাজের সামনে তুলে ধরবে আর সমাজ তা মেনে নেবে। সেই ক্ষেত্রে দেশে বিদেশে সব জায়গায়ই লুকোচুরি করে সম্পর্ক রেখে নানা রকম বিপদে পড়ছে তরুণ-তরুণীরা। কারণ তারা পরিবার ও নিজের কমিউনিটি থেকে কোনো সাহায্য পাবে না যেনেই হয়তো তারা বিপদে আছে বা বিপদে পরতে পারে এই বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করতে পারে না। তাই লিভ টুগেদারের বিষয়টি যতোক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক স্বীকৃতি না পাবে ততোদিন পর্যন্ত এরকম নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবেই।’

[৭] টেলিওজের সিইও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পরিবার মানুষকে সুন্দর সুশৃংখলভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়। আমরা যারা বাংলাদেশি সংস্কৃতি বুকে ধারন করি এবং পরিবারের সাথে মিলেমিশে এক হয়ে বসবাস করতে চাই, তারা মনে করি, লিভটুগেদার হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের একটি সামাজিক ব্যাধি । এটা থেকে মুক্তি পাওয়াটা খুবই জরুরি।’

[৮] বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি রতন কুন্ডু মনে করেন, উঠতি বয়সের তরুন তরুনীদের চোখে প্রকৃতিগতভাবেই একটি রঙীন চশমা থাকে। সেই চশমা পড়ে তারা যা দেখে তাই তাদের কাছে সুন্দর মনে। তাই খুব সহজেই তারা ভুল করে এবং অনেক সময় সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় জীবন দিয়ে। আমাদের সকল ধর্মীয় ও তাবৎ সাংস্কৃতিক মুল্যবোধ লিভ টুগেদার সমর্থন করেনা।’
বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ফায়িজা কালাম রুবা বলেন, আমি একজন মা হিসেবে আমাদের নতুন প্রজন্ম নিয়ে খুবই শঙ্কিত। আর আমাদের সমাজ এখনো এতটা খোলামেলা হয়নি যে লিভিং টুগেদার মেনে নেবে।’

[৯] আওয়ামী লীগ নেতা হাসান শিমুন ফারুক বলেন, বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন ।লিভিং টুগেদার একটি অভিশপ্ত জীবন যাপনের প্রক্রিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় এটাই প্রথম নয় এর আগেও বাংলাদেশি তরুণী খুন হয়েছে। প্রত্যেকটি অভিভাবকের উচিৎ সন্তানদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া ।কমিউনিটি লিডারদের এই ব্যাপারে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে ।প্রবাসী বাঙালীদের আরও সচেতন করতে পারেন সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ।’

[১০] বিজয় কণ্ঠের সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ অক্ষুন্ন না রাখতে পারাতে আমাদের এমন দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরো বেশী যত্নশীল হওয়া দরকার।’

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অনেক বাংলাদেশিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, যেভাবে বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম ভিনদেশিদের সঙ্গে লিভিং টুগেদার করছেন তাতে আগামীতে প্রবাসে বাংলা ভাষা, শিল্প, সাহিত্য আর সংস্কৃতি ধারণ করার মত কেউ থাকবে না। অন্তত আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক কারনেই প্রবাসী অভিবাবকদের এই বিষয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর