নোয়াখালী প্রতিনিধি : জনস্বাস্থ্যের দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব ফের নোয়াখালীতে পদায়নের জোর তদবির, চেষ্টার খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে নোয়াখালীর ঠিকাদার সমাজ ও জেলার সচেতন নাগরিকরা।
ইতোপূর্বে নোয়াখালীতে কর্মকালীন তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, আহসান হাবিব নির্বাহী প্রকৌশলী। নোয়াখালীতে কাজ না করিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন কে কর্পোরেশনকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি সংঘটিত করার অভিযোগে তাকে নোয়াখালী থেকে বদলি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. আহসান হাবিব জনস্বার্থ প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকালীন, “সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ” প্রকল্প থেকে হাতিয়া উপজেলায় মেসার্স এন কে কর্পোরেশন ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৫ টাকার কার্যাদেশ দেয়।
এ কাজের প্যাকেজে টেস্ট টিউবওয়েল, প্রোডাকশন টিউবওয়েল, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যাদেশ ছিল। এসব কাজের ব্যয় ধরা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন কে কর্পোরেশনকে দিয়ে এ সকল কাজ না করিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজের সম্পূর্ণ বিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠলে গত ১২ জুন ২০২৪ তারিখে তার বিরুদ্ধে ৩৬০৫ স্মারক মূলে প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ স্বাক্ষরিত দুই সদস্যর একটি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়।এছাড়া নোয়াখালীতে বিভিন্ন ঠিকাদারকে কাজ দিবে বলে মোট অঙ্কেটলর টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু এখানেই নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবের তুঘলকি কাণ্ডের শেষ নয়। তিনি পাবনায় কর্মকালীন সরকারি অর্থ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতির অভিযোগে পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়। শুধু তাই নয় সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে সরকারের অনুমতি ব্যতীত অননুমোদিতভাবে প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিদেশ ভ্রমণ করেন। যা তার পাসপোর্ট পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে।
নেত্রকোনায় নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্বে থাকাকালীন তার তৃতীয় স্ত্রী ডাক্তার সুমনা ইসলামের নামে বাসুকা কর্পোরেশন নামীয় লাইসেন্স করে ওই লাইসেন্সে স্ত্রীকে তারই স্বাক্ষরে নেত্রকোনায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ দশমিক ৯০৬ টাকার নলকূপ বসানোর কার্যাদেশ দেন। প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ থাকায় ৯ মে ২০২২ তারিখ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
কিন্তু প্রকৌশলী আহসান হাবীব চাকুরী হতে বরখাস্ত হলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনকে ম্যানেজ করে ফের চাকুরিতে নিজেকে বহাল করেন তিনি।
সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁওয়েও তিনি বসে নেই। সেখানেও তিনি নানা আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এবং তার চাকুরি জীবনে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুট পাটের অভিযোগ ওঠেছে ।
সূত্র আরও জানায়, প্রকৌশলী আহসান হাবীব তার নিকট আত্মীয়দের নামে লাইসেন্স করে অধিকাংশ সময় সেই লাইসেন্সে কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করে থাকেন। অন্য লাইসেন্সে কাজ দিলেও সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করেন। তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নামে বেনামে এবং নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করলে, তার কর্মজীবনের লুটপাটের ফিরিস্তির সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র দাবি করেছে।
সূত্র আরো জানায়, তার রয়েছে আরো বহু তুঘলকি কান্ড, সরকারি অনুমতি ছাড়া অননুমোদিতভাবে তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন। ডাক্তার সুমনা ইসলাম নামে এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তিনি এই তৃতীয় বিয়ে করেছেন। সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং তার ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের কথা তুলে ধরেন যা বাংলাদেশের প্রায় জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।