মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির উদ্যোগে তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে তারা উপজেলার ক্রসিং একালা থেকে শুরু করে মানববন্ধনের মিছিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে উপস্থিত হয়। উপস্থিত মৎসজীবী জেলেদের জ্বালাময়ী বক্তব্যের মাধ্যম্য উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।
কর্ণফুলী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শফি’র সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ মুন্না’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ক্ষুদ্র মৎসজীবী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলিম।
এসময় উপস্থিতি ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলেরা বলেন, আজকের মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকারের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারকে অবহিত করতে চাই। মৎস্য অভিযানের বন্ধের সময়ে অন্যান্য উপজেলার জেলের মৎস্য ভাতা পাই। আমরা কেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জেলে পেশা ছাড়া অন্য কোন পেশা আমরা জানি না। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত আছি। তবে, এ দিনগুলোতে আমরা কি খেয়ে বাঁচবো তা উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আমারা জানতে চাই।
সভাপতি মোহাম্মদ শফি বলেন, আগে আমরা নদী ও খাল থেকে যে পরিমাণ মাছ ধরতাম এখন তা আর পায় না। কেননা, বর্তমানে নদী ও খাল বিভিন্ন মিল ও কারখানার দুষিত ময়লা-আবজনায় ভর্তি। এ ময়লা-আবর্জনার কারণে নদী ও খালের পানি দুষিত হয়। তা মাছের জীবন ধারণ ও প্রজননে চরম বাঁধা সৃষ্টি করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্ষদ্র মৎস্যজীবী কর্মকর্তার নিকট বিনীত অনুরোধ জানাছি।
তিনি আরো বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য ১৪০০ জন। আগে যে পরিমান বরাদ্দ আসতো তা নামে মাত্র। এ বরাদ্দে আমরা জেলে সমতি জন্য খুবই নগণ্য।
চট্টগ্রাম জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সেক্রেটারি মুহাম্মদ ছবুর বলেন, কর্ণফুলী জেলে সমিতির বিষয়ে আমি চট্টগ্রাম ডিসি স্যারকে জানিয়েছি। উনি বলেছেন আগে কর্ণফুলী উপজেলা পটিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। পটিয়া থেকে আলাদা হওয়ার পর তাদেরকে তালিকা ভুক্ত করা হয়নি। যার কারণে তারা কোন জেলে ভাতা পাচ্ছে না। আমি তাদের নাম তালিকা ভুক্ত করার জন্য বলেছি। আগামী বছর থেকে তারা যেন সকল প্রকার জেলে ভাতা পায়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, পটিয়া থেকে আলাদা হওয়ার পর কর্ণফুলী উপজেলাকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। আমার জানা মতে আপনারা ৫৮ দিনের বন্ধের সময় অল্প কিছু সরকারী প্রণোদনা পান। আপনাদের জেলে সদস্যের তুলনায় তা খুবই কম। অবশিষ্ট সদস্যদের ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত কথা বলেছি। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথেও কথা হয়েছে। উনি আগামী বছর থেকে আপনাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন।