শেখ সেকেন্দার আলী: [২] শনিবার (১৬ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কে ‘‘রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব’’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ।
[৩] সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্বসম্প্রদায়কে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
[৪] বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয় এবং মিয়ানমার কর্তৃক সৃষ্ট এই সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যাতে করে বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গার ভারবহনের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারে।
[৫] অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আমেরিকা প্রবাসী তরুন সারওয়ার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এনআরবি’র চেয়ারপারসন সেকিল চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রধান ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক এবং লেখকরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং এ ব্যাপারে করণীয় প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
[৬] অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর মাসুদুল হাসান, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, রিমন ইসলাম, সমাজসেবী জুলকার হায়দার, ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লিটন আহমেদ, কাতার প্রবাসী নজরুল ইসলাম, প্রবাসী শিল্পী ইকবাল হামিদ, অধ্যাপক হোসনে আরা, শেখ আতিকুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ খান শিপু, আমেরিকা ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিরুদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী সানওয়ার চৌধুরী, বাংলাদেশী ফ্যাশন ডিজাইনার তহুরা চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
[৭] বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এক কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশের ৩৫টি ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং এদের কারণে স্থানীয় পরিবেশ, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, খাদ্য সংকট, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানামুখী সমস্যা তৈরি হয়েছে।
[৮] অনুষ্ঠানে বক্তারা আমেরিকার রাজনীতিবিদ, জনগণ এবং প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য এবং বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করবার জন্য আহ্বান জানান। বক্তারা, জাতিসংঘ এবং তার অঙ্গ সংগঠন এবং বৃহৎ অর্থনীতির দেশসমুহকে এই কঠিন সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
[৯] গোল টেবিলের সভাপতি সেকিল চৌধুরী তার সমাপনী বক্তব্যে বিশ্বসম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনগণের সঙ্গে মতো বিনিময় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে মানবিক নজির স্থাপন করেছে তার যৌক্তিক পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আজ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ, এশিয়ার অঞ্চল এমনকি বিশ্বব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার প্রয়াস রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বিস্তার ঘটতে পারে এ ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রসমূহকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থেকে যৌক্তিক সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।
[১০] অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন কাজে জড়িত আরো যারা রয়েছেন, তাদের সকলের সঙ্গে একযোগে এই বিষয়ে জনমত গঠনে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। সম্পাদনা: হ্যাপি