#কলকাতা: World Telecommunication Day 2021 মানুষের সভ্যতা যত সুদূরব্যাপ্ত হয়েছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার তাগিদ। আর ঠিক এই জায়গায় কাজে এসেছে প্রযুক্তি। তার সাহায্যে টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমেই হালফিলে পৃথিবীর এক প্রান্ত পৌঁছে যায় আরেক প্রান্তের কাছে। বিপদের দিনে নিমেষে পৌঁছে যায় সাহায্যসূত্রের সন্ধান। সেই ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির (Information and Communication Technology) গুরুত্ব উদযাপনের লক্ষ্যেই প্রতি বছর ১৭ মে তারিখটি ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে (World Telecommunication Day), সংক্ষেপে WTD হিসাবে পালিত হয়ে থাকে।
ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে ইতিহাস:
টেলিকমিউনিকেশনের প্রসঙ্গ উঠলে হালফিলে আমাদের সবার আগে মনে যায় ইন্টারনেটের কথা। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে উদযাপনেও ইন্টারনেটের ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চলতি বছরে। কিন্তু ইন্টারনেট খুব একটা পুরনো প্রযুক্তি না হলেও ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে-র সূচনার লক্ষ্যে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে শতাব্দীপ্রাচী পথে, সে-ই ১৮৬৫ সালে! ওই বছরের ১৭ মে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (International Telecommunication Union), সংক্ষেপে ITU-এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। এই অধিবেশন উপলক্ষ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল টেলেগ্রাফ কনভেনশন (International Telegraph Convention)।
এর পর আমাদের চলে আসতে হবে ২০০৫ সালে। সেই সময়ে ওয়ার্ল্ড সামিটে (World Summit) ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির (UN General Assembly) কাছে ইনফরমেশন সোসাইটিকে (Information Society) সামনে রেখে একটি অনুরোধ করা হয়। আর্জি জানানো হয় যে প্রতি বছর ১৭ মে তারিখটিকে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে (World Information Society Day), সংক্ষেপে WISD হিসেবে পালনের অনুমতি দেওয়া হোক! ২০০৬ সালের মার্চ মাসে ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি এই প্রস্তাবে সম্মতির সিলমোহর দেয়। সেই বছর তুরস্কের আনতালিয়ায় যে অধিবেশন বসেছিল, তা ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে মিলিয়ে দেয় এক খাতে; জন্ম নেয় ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে (World Telecommunication and Information Society Day), সংক্ষেপে WTISD।
ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে বছরচলতি থিম:
করোনাবিধ্বস্ত লকডাউনের দিনে ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে ইন্টারনেটের বিশদ ব্যবহারে প্রত্যেকের কাছে খবর পৌঁছনোর গুরুত্ব এবং এই বিষয়ে সামাজির বৈষম্যের প্রতিরোধকে। এই দুঃসময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক দিকে যেমন অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন, তেমন সমাজের একটা বড় অংশ এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গিয়েছেন। সেই সামাজিক অসাম্য দূরীকরণে মনোনিবেশ করেছে ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডে।