বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় ৭১ পরিবারের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১৯ বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন রাশিয়ার সৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ৭ ‘Who approved it?’: Hockey India president Dilip Tirkey seeks answers on jersey switch | Hockey News Top Ent News, August 3: Salman Khan Opens Up About Time In Jail; Kangana Ranaut Takes A Dig At Sonakshi Sinha? | Bollywood News এক দফা ঘোষণার আগে নাছিরের মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি আব্দুল কাদেরের ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৮০ ঢাবিতে গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রতি অঙ্গীকার বিন্দুমাত্র টলবে না: চীনা রাষ্ট্রদূত

শয়তানের কুমন্ত্রণায় প্রভাবিত অন্তর…

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫
  • ২৩৬৪ সময় দেখুন
শয়তানের কুমন্ত্রণায় প্রভাবিত অন্তর…

এস এম আনিছুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার: মানুষের অন্তর সব সময় পরিবর্তিত হতে থাকে, সে জন্য মনে এক এক সময় এক একরকম ভাব পরিলক্ষিত হয়। সেগুলোকে ‘খাওয়াতির’ বলা হয়। খাওয়াতির হতে প্রবণতা এবং প্রবণতা হতে সংকল্প, ইচ্ছা ও নিয়ত গতিশীল হয়। খাওয়াতির দু’প্রকার- শুভ ও অশুভ। অশুভ খাওয়াতিরের পরিণতি ক্ষতিকর হয় এবং শুভখাওয়াতির দ্বারা আখিরাতে ফায়দা পাওয়া যায়। শুভ খাওয়াতিরকে ইলহাম এবং অশুভ খাওয়াতিরকে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ ও কুমন্ত্রণা বলা হয়। শুভ খাওয়াতিরের মূল কারণ ফেরেশতা এবং অশুভ খাওয়াতিরের মূল উদগাতা শয়তান। ফেরেশতা এমন এক সৃষ্টিকে বলা হয়, যাকে আল্লাহ তা’আলা মঙ্গল ও জ্ঞান পৌছানো, সত্য কাষ, কল্যাণের ওয়াদা এবং সৎ কাজের আদেশ করার জন্যে সৃষ্টি করেছেন। পক্ষান্তরে শয়তান এমন এক সৃষ্টি, যার কাজ ফেরেশতার কাজের বিপরীত। অর্থাৎ শয়তানের কাজ অনিষ্টের ওয়াদা, অশ্লীল কাজের আদেশ এবং দান খয়রাতের বেলায় দারিদ্র্যের ভয় দেখানো ইত্যাদি। এ থেকে জানা গেল, কুমন্ত্রণার বিপরীত হচ্ছে ইলহাম এবং শয়তানের বিপরীত ফেরেশতা। মানুষের অন্তর সর্বদা এই শয়তান ও ফেরেশতার টানাহেঁচড়ার মধ্যে অবস্থান করে। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে,

فِي الْقَلْبِ لمَّتَانِ لمَّةٌ مِنَ الْمَلَكِ إِبْعَادُ بِالْخَيْرِ وَتَصْلِيقَ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذلِكَ فَلْيُعْلَمُ أَنَّهُ مِنَ اللهِ سُبْحَانَهُ وَلْيَحْمَدُ للهِ وَلِمَّةٌ مِنَ الْعَدُو إِبْعَادُ بِالشَّرِ
وتكذيبُ بِالْحَقِّ وَنَهَى مِنَ الْخَيْرِ .

দুটি জিনিস অন্তরে উঠানামা করে। একটি ফেরেশতার পক্ষ থেকে। তার কাজ হল কল্যাণের ওয়াদা প্রদান এবং সত্য বিষয়কে সত্য জানা। যে এটা পাক পবিত্র অনুভব করে, তার জানা দরকার, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তার আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। অপর উঠানামা হয় শত্রু অর্থাৎ শয়তানের পক্ষ থেকে। তার কাজ হল অমঙ্গলের ওয়াদা দেয়া এবং সত্যকে মিথ্যা মনে করা। যে এটা অনুভব করে, সে যেন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চায়।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন,

الشَّيْطَنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ

“শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের অঙ্গীকার করে এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ করে।”

হযরত হাসান বসরী (র) বলেন, অন্তরের চারপাশে ইচ্ছা ঘুরাফেরা করে। একপ্রকার ইচ্ছা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর একপ্রকার শত্রুর পক্ষ থেকে। সুতরাং আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহম করুন, যে ইচ্ছা করার সময় বিরতি দেয়। যদি সে জানে যে, ইচ্ছাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে তা কার্যকর করে। আর যদি জানে, শত্রুর পক্ষ থেকে তবে তার সাথে জিহাদ করে। অন্তরের এই টানাহেঁচড়ার প্রতি নিম্নোক্ত হাদীসে ইশারা করা হয়েছে-

قَلْبُ الْمُؤْمِنِ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ .

মুমিনের অন্তর দয়াময় আল্লাহ্ তা’আলার দু’অঙ্গুলির ফাঁকে অবস্থান করে।

অন্তরের মধ্যে জন্মগতভাবেই ফেরেশতার প্রভাব ও শয়তানের প্রভাব গ্রহণ করার যোগ্যতা সমান সমান। একটির অগ্রাধিকার অপরটির উপর নেই। হাঁ, কামপ্রবৃত্তির অনুসরণ ও বিরোধিতার মাধ্যমে একটি অন্যটির উপর শক্তিশালী হয়ে যায়। অর্থাৎ, মানুষ যদি কাম ও ক্রোধের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে, তবে শয়তান তার উপর শক্তিশালী হয়ে যায়। তখন তার অন্তর শয়তানের আস্তানা হয়ে য়ায়। কেননা, কামপ্রবৃত্তিই শয়তানের বিচরণ ক্ষেত্র। পক্ষান্তরে যদি কেউ কামপ্রবৃত্তিকে পরাস্ত করে ফেরেশতাসুলভ চরিত্র অবলম্বন করে, তবে তার অন্তর
ফেরেশতাদের বাসস্থান হয়ে যায়। যেহেতু মানুষের অন্তরে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ইত্যাদি সকল প্রবৃত্তি রয়েছে, তাই প্রত্যেক অন্তরে শয়তানেরও কুমন্ত্রণা দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

ذَالِكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهُ خَنْزَبُ فَإِذَا احْسَسَتَهُ فَتَعَوَّذَ بِاللَّهِ مِنْهُ وَاتَّقُلْ عَنْ يُسَارِكَ ثَلَاثًا . –

অর্থাৎ এই শয়তানকে খানযাব বলা হয়। তুমি যখন একে অনুভব কর, তখন ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম’ পাঠ কর এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ কর।

আমর ইবনে আস বলেন, আমি এই হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী আমল করে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেলাম।

✍️মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী
📺Islamic Lecturer DESH TV & BANGLA TV ঢাকা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom