মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

ইবোলা নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৭২ সময় দেখুন
ইবোলা নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তবে সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছেনি। যদিও সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, এখন পর্যন্ত আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া ছাড়াও স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মঙ্গওয়ালু ও রোয়াম্পারা এলাকায় সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা পাওয়া গেছে। রাজধানী কিনশাসা-তেও একজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যিনি ইতুরি থেকে ফিরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভাইরাসটি কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী উগান্ডা-তেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা ফরাসি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা-তেও একটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। শহরটি বর্তমানে এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয় নাগরিক কঙ্গোতে ইবোলার সংস্পর্শে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের একজনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেও এখনো কারও সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, তারা কঙ্গো ও উগান্ডায় অতিরিক্ত কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে কঙ্গোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস নাগরিকদের ইতুরি প্রদেশে ভ্রমণ না করার সতর্কতা দিয়েছে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, টিকা ও কার্যকর ওষুধের অভাবে জনস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও শেষকৃত্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণও করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এবং ভাইরাসের ভৌগোলিক বিস্তার সম্পর্কে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি জানান, কঙ্গোর চলমান নিরাপত্তা সংকট, মানবিক পরিস্থিতি, জনসংখ্যার উচ্চ চলাচল এবং অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কারণে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom