শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ইরান পুনরায় আলোচনা শুরু না করলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২২৯ সময় দেখুন
ইরান পুনরায় আলোচনা শুরু না করলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) টানা চতুর্থ দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির মধ্যেই ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির সমস্ত পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করলেও ইরানের বন্দরগুলো পুনরায় অবরোধ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই খুব খারাপ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। আমরা তাদের সমস্ত সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি না তারা আলোচনায় বসে।’

এর মাধ্যমে তিনি তার আগের হুমকিগুলোই পুনরাবৃত্তি করলেন, যার বিরুদ্ধে সে সময় জাতিসংঘের কর্মকর্তারা নিন্দা জানিয়েছিলেন।

এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সেসময় জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ।’

১৯৪৯ সালের জেনিভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থি।

মঙ্গলবার রাতে প্রচারিত ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুগুলোকে শেষের জন্য রেখে দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেগুলোতেই আঘাত হানব।’

তিনি বলেন, মার্কিন আলোচকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের ইরানি প্রতিপক্ষকে জানিয়েছেন যে, ‘আপনাদের একটি চুক্তিতে আসতেই হবে, নইলে আপনাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ‘বিশাল’ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হবে বলে ট্রাম্পের ঘোষণার পরই এই বাগাড়ম্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনরায় শুরু করার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি এই ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের ফলে তেলের দাম অনেক বেশি বেড়েছে, কারণ প্রণালিটি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার গভীর রাতে জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘বাণিজ্যিক জাহাজ’ আক্রমণে ব্যবহৃত ইরানি সক্ষমতা রুখে দিতে তাদের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, ‘ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। যার ফলে প্রায় এক ডজন বেসামরিক নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।’

সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে, ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জাতীয় ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

পরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি ট্যাংকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল এবং মাইন পাতা একটি পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

সেন্টকমের বিবৃতিতে অন্য কোন কোন হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আইআরজিসি তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর