শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন, বিভ্রান্তিতে ভোটাররা কর্ণফুলীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে গাড়ি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মামলা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশ ন্যাপ’র অভিনন্দন সারাদেশে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে কলেরা টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু জাতীয় মৎস্য পদক পেলেন বাকৃবি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সরদার Suresh Oberoi Recalls Joining BJP, Says Guru Warned Him Off Politics: ‘I’m Fine With Modi Ji, Amit Shah, Yogi…’ | Bollywood News Manav Suthar scripts history, equals 93-year-old record after stunning Sri Lanka Test show | Cricket News রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এখন হালাল খাবার : তথ্যমন্ত্রী

কর্ণফুলীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে গাড়ি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মামলা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৫ সময় দেখুন
কর্ণফুলীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে গাড়ি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মামলা

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় একটি ওয়ানটেজ সিএনজি অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ২ হাজার টাকা নেওয়া এবং গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকার মামলা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সিএনজি চালক মো. হাসান। তার দাবি, ২০০ টাকার একটি ভাড়া শেষে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ তার সিএনজি আটক করে। পরে তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে পাঠানো হয়।

চালক হাসানের অভিযোগ, সেখানে কনস্টেবল মো. রবিউল ২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। পরে একজন দালালের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাসান বলেন, ‘আজ সারাদিনে আমার আয় ছিল মাত্র ২০০ টাকা। আগামীকাল কিস্তি দেওয়ার কথা। বাড়ি থেকে কিস্তির টাকা এনে ২ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে এনেছি। এখন কিস্তির টাকা কীভাবে দেব?’

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন নায়েক রবিউল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রেজাউল, কনস্টেবল মো. মফিজুল এবং কনস্টেবল মো. রাসেল।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে কয়েকজন সংবাদকর্মী ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে গেলে সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রথমে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এবং এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের ‘বসেন, চা খান, আমি আসতেছি’ বলে জানান। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি স্টেশনে আসেন।

এ সময় গাড়িটি কেন টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সংবাদকর্মীরা মামলার সময় ও কাগজ দেখতে চাইলে দেখা যায়, রাত ৯টা ১ মিনিটে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকার মামলা করা হয়েছে। মামলার Case Slip নম্বর—9810213438। অর্থাৎ সংবাদকর্মীরা পুলিশ স্টেশনে অবস্থান করার সময়ই গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখা যায়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাড়িটি আটক করার পর যদি আইন অনুযায়ী মামলা করার মতো অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তখনই মামলা না করে কেন টাকা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হলো? আবার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির সময় কেন একই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হলো এবং গাড়ি আটক না থাকা অবস্থায় কিভাবে মামলা দিল?

এ বিষয়ে সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হলে ওসি সাহেবের কাছ থেকে নিতে হবে।

পরে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি তখনই অবগত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লায় একটি কনফারেন্সে রয়েছেন এবং বর্তমানে দায়িত্বে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে দায়িত্ব তার।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তি পরবর্তীতে সিএনজি চালক মো. হাসানকে হুমকি দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তাকে ‘এই রোডে কিভাবে গাড়ি চালাও দেখব’ বলে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ৪০/৪২ হাজার টাকার মামলা দেওয়ার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেছেন হাসান।

এ ঘটনায় সিএনজি চালকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টাকা দেওয়ার অভিযোগ করার পর যদি তাকে বড় অঙ্কের মামলার ভয় দেখানো হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় কার—এ প্রশ্নও উঠেছে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ প্রায় সময় যানবাহন থামিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে পরে গাড়ি ছেড়ে দেয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের এএসপি শাহ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘গতকাল সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভারের সঙ্গে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা সত্যিই দুঃখজনক।’ বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ হলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি যাচাই করে দেখব। যদি তা সত্য হয়, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের এসপি মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনেছি। তারপরও আমি ওই সিএনজি অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ তিনি প্রতিবেদককে চালককে তার মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলার অনুরোধ জানান।

ঘটনাটি নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—২ হাজার টাকা কার মাধ্যমে এবং কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল? টাকা নেওয়ার পর গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর একই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হলো কেন? মামলাটি রাত ৯টা ১ মিনিটে করা হলেও গাড়িটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আটক করা হয়েছিল—এই সময়ের ব্যবধানের কারণ কী? আর গাড়ি আটক না থাকা অবস্থায় কিভাবে কিভাবে মামলা দিল? সংবাদকর্মীরা পুলিশ স্টেশনে অবস্থান করার সময়ই কেন মামলাটি করা হলো? টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? অভিযোগ করার পর চালককে ৪০/৪২ হাজার টাকার মামলা দেওয়ার হুমকির অভিযোগের তদন্ত হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom