রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেধাবীদের ল্যাপটপ-ট্যাব পুরস্কার, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের প্রত্যয়ে প্রবাহের সমাপনী অনুষ্ঠান মোহনপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে নিহত ১ যুব সমাজকে বাঁচাতে মিলনপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় শিশু মাসুদ, চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন আবদুল্লাহ আল আজিজ জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন-রাকসু’র সংস্কৃতি সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী অনভিবাসী ভিসাধারীদের উদ্দেশে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা ‘Can’t believe it’: Ex-England captain stunned by Vaibhav Sooryavanshi snub | Cricket News মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা Khushbu Sundar Gets Emotional As Daughter Avantika Marries Shravan Sreenivasan: ‘Eyes Are Still Moist’ | Tamil Cinema News

কোরবানির পশু থেকে ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী রোগ, সতর্ক করলেন বাকৃবি অধ্যাপক

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ১৯৬ সময় দেখুন
কোরবানির পশু থেকে ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী রোগ, সতর্ক করলেন বাকৃবি অধ্যাপক


বাকৃবি: পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। এ সময়ে গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) ও ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (খুরা রোগ) জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান।

তিনি বলেন, ‘দেশে কিছুদিন আগে রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত, চোখ ফোলা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত, মাংস এবং দেহের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমিত হতে পারে। হাটে যদি কোনো আক্রান্ত পশু থাকে, তাহলে সেখান থেকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে নিয়মিত টিকাদান এবং হাটে প্রাণীর প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’

অধ্যাপক আমিমুল এহসান জানান, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। তবে লক্ষণ দেখা দিলে পশুর শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয়। এই রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে জীবাণুটি ‘স্পোর’ তৈরি করে, যা দীর্ঘসময় সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া, পশুর জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে কিংবা সাদা দাগ ও ফোসকা দেখা দিতে পারে। আচরণগত পরিবর্তন হিসেবে অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্ত ভাবও লক্ষ করা যেতে পারে।

কোরবানির পশুদের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের পাশাপাশি খুরা রোগও বড় উদ্বেগের কারণ বলে জানান তিনি।

ড. আমিমুল এহসান বলেন, ‘খুরা রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোরবানির সময় এ রোগ মহামারি আকারে দেখা দেয়। দিনাজপুর বা চট্টগ্রামের কোনো আক্রান্ত গরু যখন ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা হয়, তখন পুরো পথজুড়ে এবং আশপাশের সব গরুর মধ্যে এ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই খামারিদের প্রতি অনুরোধ, অসুস্থ পশু কোনোভাবেই হাটে বা ট্রাকে তুলবেন না। আগে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পশুকে সুস্থ করে তারপর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত কোরবানির পরও অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যায়। এসব পশু হাটে এসে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে অন্যান্য সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে। তবে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ মানুষে সংক্রমিত হলেও অ্যানথ্রাক্সের মতো জটিল পর্যায়ে যায় না।’

এ ছাড়া, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, ‘অসুস্থ মনে হওয়া প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে তা ঢেকে হাটে যাওয়া উচিত, কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের মতো জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর দ্রুত হাত ও পা সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।’

হাট ব্যবস্থাপনায়ও সতর্কতা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হাটের বর্জ্য ও রক্ত যাতে যত্রতত্র না পড়ে, সে বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং মাংস সঠিকভাবে রান্না করা নিশ্চিত করতে হবে।’

সন্দেহজনক কোনো পশু হাটে দেখা গেলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom