বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

‘গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে গণআন্দোলন’

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১০২ সময় দেখুন
‘গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে গণআন্দোলন’


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে আরও বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা।

সোমবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পত্রিকান্তরে জানতে পারলাম, প্রকৃতির ছায়াঘেরা সিআরবিকে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ক্ষতবিক্ষত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা জানতে পারলাম, সিডিএ টাইগারপাস থেকে পলোগ্রাউন্ডে দ্বিতল সড়কের পাশে এবং বিভাজকে থাকা শতবর্ষী বৃক্ষসহ অন্তত ৪৬টি গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে।’

‘এ সংবাদ জানার পর থেকে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। চট্টগ্রামের নাগরিকদের ক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আমরাও সিডিএর এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে সিপিবির নেতারা আরও বলেন, ‘আমরা উন্নয়নবিরোধী নই। কিন্তু যে উন্নয়ন প্রাণ-প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, যে উন্নয়ন মানুষের নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকু কেড়ে নেয়, যে উন্নয়ন মানুষের স্বস্ত্বির বদলে দুর্ভোগ বাড়ায়, সেই উন্নয়ন চাই না। এ শহর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই শহরের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের মতামত গ্রহণ করা উচিত।’

‘দ্বিতল সড়কের গাছগুলো নিছক একেকটি বৃক্ষ নয়, এর সঙ্গে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, আবেগ জড়িত। এ গাছের শরীরে কুড়াল চালানোর কোনো দুঃসাহস যেন কেউ না করে, এটা আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই। সিডিএকে বলব, অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। দ্বিতল সড়ক এখন যেভাবে আছে সেভাবেই রাখুন। অন্যথায় সিপিবি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।’

বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘যদি র‍্যাম্প করতে হয়, অনেক জায়গা আছে। এখানে গাছ কেটে কেন করতে হবে। এখানে কোন গাছ কাটা চলবে না। প্রকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে যে কোনো কিছু করতে পারে, তারা সেটি করুক। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য এসব শতবর্ষী গাছ ও দ্বিতল রাস্তাটি নষ্ট করে সিআরবির পরিবেশ ধ্বংস করা। তারপর সিআরবিতে থাবা বসানো। শতবর্ষী গাছ কেটে নতুন চারা লাগানোর কোনো প্রয়োজন নেই।’

খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ সড়ক শুধু চট্টগ্রামের নয়। দেশের ও বিশ্ব প্রকৃতির সম্পদ। যা সৃষ্টি করতে পারবেন না তা কেন ধ্বংস করছেন। এই নান্দিকতা দেশের সম্পদ। সিডিএর লোকজন যা বলছেন তা হঠকারিতা। সিআরবির মাটি কামড়ে আমরা পড়েছিলাম। এখানে এক টুকরো মাটিও কাটতে দেয়া হবে না। নয়ত আমরা রক্ত দিয়ে এ সম্পদ রক্ষা করব। অবিলম্বে সিডিএর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা চাই। নিউমার্কেট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের অনেক বিকল্প আছে।’

নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশের আরও বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান, সাংবাদিক ঋত্ত্বিক নয়ন, সারোয়ার আমিন বাবু, কবি মোহছেনা ঝর্ণা, স্থপতি আশরাফুল ইসলাম ও আলীউর রহমান।

সারাবাংলা/আইসি/একে





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom