ঢাকা: ঈদুল আজহা, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা ১৬ দিনের দীর্ঘ বিরতি শেষে আজ রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও নিয়মিত পাঠদান শুরু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি শেষে আজ থেকে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পাঠদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটি শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন। দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীদের আবারও নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আগামী বছর বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের জন্য বিশেষ ক্লাস ও পুনরাবৃত্তিমূলক পাঠের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ছুটির আমেজ কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ পড়াশোনার দিকে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য শিক্ষকদের ধৈর্যশীল ও সহায়ক মনোভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোনিবেশ করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যম নিয়ে স্কুলে ফিরবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, পাঠদানের পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে চাঙা রাখতে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে। অভিভাবকদের মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে স্বস্তি দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিশু-কিশোরদের দৈনন্দিন শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। এখন আবার নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ায় তারা নির্ধারিত রুটিনে ফিরে আসতে পারবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির কারণে পাঠদানে কোনো ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আজ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে যাওয়ার ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যানবাহনের চাপও কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।