শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
  • ১৭৬ সময় দেখুন
দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ – Corporate Sangbad


কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ পয়েন্টে একযোগে এ হামলা করে নিজেদের পরিচয় জানান দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সারা দেশে সংগঠিত হওয়া সিরিজ বোমা হামলায় দুজন নিহত এবং ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজ বোমা হামলার পর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে— ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা দায়ের হয়। তবে ১৫৯ মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪২ মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত না হওয়ায় বাকি ১৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

সিরিজ বোমা হামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১৩০ জন। তবে এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৯৬১ জনকে। অন্যদিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে। এসব মামলার মধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে ৯৪টির। ৯৪টি মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যদিকে খালাস পেয়েছেন ৩৪৯ জন, আর জামিনে আছেন ১৩৩ জন। আর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৫৫টি মামলা। এসব মামলার আসামি ৩৮৬ জন। ঢাকায় বিচারাধীন পাঁচটি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি,চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

বিএনপি জামায়াতের শাসন আমল (২০০১ থেকে ২০০৬) এ সরকারি এমপি মন্ত্রীদের সরাসরি মদদে সারাদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা।

২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। ওই বছরের ৩ অক্টোবরে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং লক্ষীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতি জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতি এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইজনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। আত্মঘাতি হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয়।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতি জঙ্গিরা বিষ্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুর পাড় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতি জঙ্গিরা। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দু’নেতাসহ ৮ জন নিহত হন। শতাধিক আহত হন।

এ দিনটিকে ‘সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আওয়ামী লীগ। এবারও সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রাজধানীতে আজ বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল শুরু হবে বিকেল ৪টায়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর