শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘Can’t believe it’: Ex-England captain stunned by Vaibhav Sooryavanshi snub | Cricket News মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা Khushbu Sundar Gets Emotional As Daughter Avantika Marries Shravan Sreenivasan: ‘Eyes Are Still Moist’ | Tamil Cinema News ১০৪ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে ৭০২ শিশুর মৃত্যু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ Ecuador vs Germany FIFA World Cup 2026 Match highlights: Ecuador 2-1 Germany; Resilient Ecuador stun sluggish Germany to close in on Round of 32 একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গোলাম পরওয়ারের শোক সিএমপির কোতোয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইকৃত ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ০৫টি ল্যাপটপ, নগদ টাকা, আইএমইআই (IMEI) পরিবর্তনের মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ০৫ সদস্য গ্রেফতার Samantha Ruth Prabhu Takes A Dig At Sobhita Dhulipala?; Ashok Pathak Recalls Meeting PM Modi | Bollywood News এবার আসছে মেটার ‘AI পেনডেন্ট’!

পলাশী যুদ্ধ কেন ? ইতিহাসের কালজয়ী প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২
  • ১৯৬ সময় দেখুন
পলাশী যুদ্ধ কেন ? ইতিহাসের কালজয়ী প্রেক্ষাপট

।। মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ।।
ইউরোপীয় বণিকরা বাণিজ্যের সুবিধার জন্যই ক্রমশ এদেশের স্থানীয় রাজনীতি ও শাসন কাজে হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়। পলাশীর যুদ্ধের কারণ: ১৭৫৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন সিরাজউদ্দৌলা। নবাব হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সিরাজের বড় খালা ঘসেটি বেগম, প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতো ঘনিষ্ঠ জনেরা পলাশীর যুদ্ধের মূল চক্রান্তকারী। এ সময় নানা কারণে নবাবের সাথে ইংরেজ বণিকদের বিরোধ দেখা দেয়। ইংরেজদের সাথে নবাব বিরোধী শক্তিগুলো একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাবের সৈন্যদের সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত ও নিহত হন।

পলাশী যুদ্ধ : যেভাবে তৈরি হয় পটভূমি:-
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৭৩২-১৭৫৭) কতিপয় বিশ্বাসঘাতকের ষড়যন্ত্রের কারণে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও মৃত্যুর পরই ভারতবর্ষে ইংরেজ-শাসনের সূচনা হয়।

পলাশীর ষড়যন্ত্রকারী বিশ্বাসঘাতকদের অন্যতম- মীর জাফর, জগৎ শেঠ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, রায় দূর্লভ, উমিচাঁদ, রাজা রাজবল্লভ, মীর কাসেম, ইয়ার লতিফ খান, মহারাজা নন্দকুমার, মিরন, ঘষেটি বেগম, মুহাম্মদী বেগ, দানিশ শাহ বা দানা শাহ, রবার্ট ক্লাইভ, ওয়াটস, স্ক্রাফটন, ওয়াটসন। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও বাংলার ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তা আমরা কিছুটা জানি। কিন্তু এই বিশ্বাসঘাতকদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল?

না, স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি এদের। প্রায় সবারই মৃত্যু হয়েছিল মর্মান্তিকভাবে। কাউকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, কেউ দীর্ঘদিন রোগে ভুগে মারা গিয়েছে, কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে, কাউকে নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে, কেউ নিজের গলায় নিজেই ছুরি বসিয়েছে।

মীরজাফর:-পলাশী ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন মীরজাফর আলি খান। তিনি পবিত্র কোরআন মাথায় রেখে নবাব সিরাজের সামনে তার পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করার পরও বেইমানী করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে ষড়যন্ত্রের মধ্যমণি ছিলেন জগৎশেঠ ও মীর জাফর জুটি। তিনি ছিলেন ষড়যন্ত্রের শিখণ্ডি। মীরজাফরের মৃত্যু হয় অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। তিনি দুরারোগ্য কুষ্ঠব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিখিলনাথ রায় লিখেছেন, “ক্রমে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে, হিজরী ১১৭৮ অব্দের ১৪ই শাবান (১৭৬৫ সালের জানুয়ারী মাসে) বৃহস্পতিবার তিনি কুষ্ঠরোগে ৭৪ বৎসর বয়সে পরলোকগত হন। তাহার মৃত্যুর পূর্বে নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত আনাইয়া তাহার মুখে প্রদান করাইয়াছিলেন এবং তাহার তাহাই শেষ জলপান।”

মিরন:-মিরন ছিলেন পলাশী ষড়যন্ত্রের অন্যতম নায়ক। তার পুরো নাম মীর মুহাম্মদ সাদেক আলি খান। তিনি মীরজাফরের জ্যেষ্ঠ পুত্র। আলীবর্দী খানের ভগ্নী শাহ খানমের গর্ভে তার জন্ম হয়েছিল। এই সূত্রে মিরন ছিলেন আলিবর্দীর বোনপো। অত্যন্ত দুর্বৃত্ত, নৃশংস ও হীনচেতা এবং সিরাজ হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক মিরন। আমিনা বেগম, ঘষেটি বেগম হত্যার নায়কও তিনি। লুৎফুন্নিসার লাঞ্ছনার কারণও মিরন। মীর্জা মেহেদীকেও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিলেন তিনি। এই মিরনকে হত্যা করে ইংরেজদের নির্দেশে মেজর ওয়ালস। তবে তার এই মৃত্যু ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্যে ইংরেজরা মিথ্যা গল্প বানিয়েছিল। তারা বলেছে, মিরন বিহারে শাহজাদা আলি গওহারের (পরে বাদশাহ শাহ আলম) সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে পথের মধ্যে বজ্রাঘাতে নিহত হন। ইংরেজরা বলেছে, বজ্রপাতের ফলে তাঁবুতে আগুন ধরে যায় এবং তাতেই তিনি নিহত হন। ফরাসী সেনাপতি লরিস্টন এই ঘটনাকে অস্বীকার করেছেন। বরং এই মত পোষণ করেন যে, মিরনকে আততায়ীর দ্বারা হত্যা করা হয়েছিল।

মুহাম্মদীবেগ:-মুহাম্মদীবেগ ৩ জুলাই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। নবাব সিরাজ এ সময় তার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাননি। তিনি কেবল তার কাছে থেকে দু’রাকাত নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু কুখ্যাত মুহাম্মদীবেগ নবাব সিরাজকে সে সুযোগ প্রত্যাখ্যান করার পরপরই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহাম্মদী বেগের মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটে, তারপর বিনা কারণে কূপে ঝাঁপিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। এই মুহাম্মদীবেগ সিরাজউদ্দৌলার পিতা ও মাতামহীর অন্নে প্রতিপালিত হয়। আলীবর্দীর বেগম একটি অনাথ কুমারীর সাথে তার বিয়ে দিয়েছিলেন।

জগৎশেঠ মহাতাপচাঁদ এবং মহারাজা স্বরূপচাঁদ
পলাশী বিপর্যয়ের নীল নক্সা তিনিই প্রণয়ন করেন। সিরাজের সাথে ইংরেজদের সংঘাত এবং তার বিপর্যয় পর্যন্ত সব কিছুর মধ্যমনি ছিলেন তিনি- আলীবর্দী খাঁর শাসনামলেই জগৎশেঠের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক গভীর ছিল। নবাব সিরাজ ক্ষমতায় এলে এই গভীরতা আরো বৃদ্ধি পেল এবং তা ষড়যন্ত্রে রূপ নিলো। পলাশী বিপর্যয়ের পর জগৎশেঠ রাজকোষ লুণ্ঠনে অংশ নেন। নিখিলনাথ রায় লিখেছেন- ইহার পর ক্রমে ইংরেজদিগের সহিত মীর কাসেমের বিবাদ গুরুতর হইয়া উঠিলে, নবাব কাটোয়া গিরিয়া, উধুয়ানালা প্রভৃতি স্থানে পরাজিত হইয়া মুঙ্গেরে জগৎশেঠ মহাতাপচাঁদকে অত্যুচ্চ দুর্গশিখর হইতে গঙ্গারগর্ভে নিক্ষেপ কর হয়। মহারাজা স্বরূপচাঁদও ঐ সাথে ইহজীবনের লীলা শেষ করিতে বাধ্য হন।

রবার্ট ক্লাইভ:-নবাব সিরাজ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। ক্লাইভ খুব অল্প বয়সে ভারতে আসেন। প্রথমে তিনি একটি ইংরেজ বাণিজ্য কেন্দ্রের গুদামের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। বিরক্তিকর এই কাজটিতে ক্লাইভ মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ সময় জীবনের প্রতি তার বিতৃষ্ণা ও হতাশা জন্মে। তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি রিভলভার দিয়ে নিজের কপালের দিকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি ছোঁড়েন। কিন্তু গুলি থাকা অবস্থাতেই গুলি রিভলবার থেকে বের হয়নি। পরে তিনি ভাবলেন ঈশ্বর হয়ত তাকে দিয়ে বড় কোন কাজ সম্পাদন করবেন বলেই এভাবে তিনি তাঁকে বাঁচালেন। পরবর্তীতে দ্রুত তিনি ক্ষমতার শিখরে উঠতে শুরু করেন। পরিশেষে পলাশী ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি কোটি টাকার মালিক হন। ইংরেজেরা তাকে ‘পলাশী হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

[ লেখক:-: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক বাংলা পোস্ট | বিশেষ প্রতিবেদক দৈনিক নয়াদেশ ও প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা ]

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom