আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সব ভারতীয়র ডিএনএ সমান। যিনি বলবেন ভারতে মুসলিমরা থাকতে পারবেন না, তিনি ভারতীয় নন। যারা গো-রক্ষার দোহাই দিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে তারা হিন্দুত্বের বিরোধী। রোববার (৪ জুলাই) ভারতের ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত এসব কথা বলেছেন। এদিন তিনি মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের এক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক ঐক্যের ডাক দেন।
বক্তব্যে মোহন ভগবত আরও বলেন, ‘মুসলিমরা ভারতে বিপদে আছেন— এমন বক্তব্যের মাধ্যমে যে ভয়ের ফাঁদ তৈরি করা হয়, তাতে মুসলিমরা পা দেবেন না’।
ভারতের হিন্দু ও মুসলিমরা একই উৎস থেকে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ভারতের হিন্দু ও মুসলমান একই উৎস থেকে এসেছেন। সাম্প্রদায়িক ঐক্য ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের জাতীয়তাবাদের প্রসার দরকার। আমাদের দেশপ্রেম দরকার’।
তিনি বলেন, ‘হিন্দু ও মুসলিমদের ধর্মীয় মত বিরোধ থাকতে পারে। এসব মতভিন্নতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তা কখনই অনৈক্যের কারণ হতে পারে না’।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের সভা থেকে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের দেওয়া এমন বার্তা মূলত ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অনেক ক্ষমতাধর নেতার গত কয়েক বছর ধরে অবস্থানের বিপরীত। কেননা, বিজেপির কেন্দ্রীয় বহু নেতা বরাবরই ভারতে মুসলিমবিরোধী সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তবে বিজেপি নেতারা তাদের এসব বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক নয়, বরং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পক্ষে বলে দাবি করে থাকেন।
রোববার আরএসএস প্রধান তার বক্তব্যে এসব বিষয়ে বলেন, ‘ভারতে হিন্দু বা মুসলিম কারো প্রাধান্য থাকতে পারে না। এদেশে প্রাধান্য পাবে শুধু ভারতীয়রা’।
মুসলিম মঞ্চের এ সভায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে মোহন ভগবত জানান, ভাবমূর্তি বাড়ানো বা ভোট ব্যাংক রাজনীতির জন্য তিনি এ সভায় যোগ দেননি। তিনি বলেন, ‘সঙ্ঘ কোনো রাজনীতি করে না বা ভাবমূর্তি তৈরির পরোয়া করে না। এটি দেশকে শক্তিশালী ও সমাজের সকলের ভালোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে’।
সারাবাংলা/আইই