মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় রাতের হামলায় তারা ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের বাহিনীও এর জবাব দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫ টা থেকে এই হামলাগুলা চালানো শুরু হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের দক্ষিণে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মাহশাহর কাউন্টিতে একটি পানি পাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিরাপত্তা প্রহরী নিহত এবং আরও চারজন আহত হন।
কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই হামলার পর ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি জানিয়েছে, উপসাগরে সূর্যোদয়ের সময় ইরান আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একের পর এক হামলা–পালটা–হামলা ঘটছে। তবে রোববারের এই হামলার পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই নতুন হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে।
এই জলপথে সামুদ্রিক যান চলাচলের অবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরবিরোধী দাবি করে আসছে। আলোচনায় দর কষাকষির ক্ষেত্রে তেহরানের জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে তেহরান দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ‘শত্রুপক্ষীয় আকাশ লক্ষ্যবস্তু’ মোকাবেলা করছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ অভিযানের তৃতীয় পর্বে নিজেদের মহাকাশ বাহিনী এই হামলাগুলো চালিয়েছে।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে।
এর আগে, আইআরজিসি জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থাটি হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেছে যে, ইরান এই জলপথে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকতে দেবে না।