বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন
স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত


রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বার্তা প্রেরক দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে’ এই পদ স্থগিত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল বাপ্পির বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে তিনি অভিযোগ এনে বলেন, ‘যারা ওই মেয়েকে উস্কে দিয়েছেন এবং ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে সংগঠনকে ব্লেইম করেছে, মনগড়া শিরোনাম দিয়েছেন তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। মাইদুল ও নারীর (অভিযোগকারী) কিছু হলে উষ্কানি দাতাদের দায় নিতে হবে।’

ইয়ামিন আরও বলেন, “অন্যায় যেই করুক সংগঠন ছাড় দেবে না। আবার একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারী, গুজববাজ, প্রতারকদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”

সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই নারী। ভুক্তভোগী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগে বাপ্পি প্রতারণার চেষ্টা করলে তার পরিবার তাজহাট থানায় অভিযোগ করে; সেই অভিযোগ থেকে বাঁচতেই বাপ্পি তাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিত নেশা করেন এবং নেশার টাকার জন্য তার গায়ে হাত তোলেন, বিয়ের পর থেকে কোনো কাজ না করে সম্পূর্ণ তার উপার্জিত টাকায় চলেন ও নেশা করেন। ছোটখাটো বিষয়েও মারধর করেন এবং পরিবার থেকে টাকা আনার চাপ প্রয়োগ করেন। যৌতুকের টাকা না দিলে তার পরিবার তাকে মেনে নেবে না বলেও হুমকি দেন।

আরও গুরুতর অভিযোগে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায় যে, কাউকে এ ব্যাপারে বললে আমায় হত্যা করবে।’ বিভিন্ন সময়ে তিনি তার থেকে টাকাপয়সা নিয়েছেন এবং জোরপূর্বক একটি স্মার্টফোনও কেড়ে নিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এটা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই। তবে একটা পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছড়িয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, অভিযোগের একটি কপি হোয়াটসঅ্যাপে পেয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জমা দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তিনি এও বলেন, ‘কারো পারিবারিক সমস্যার অভিযোগের বিচার করা আমাদের কাজ না, তার জন্য আদালত রয়েছে।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সে বলেছে মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছিল, সেটি গোপন করে তার সাথে বিয়ে করেছে। এটাও তো এক ধরনের প্রতারণা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরে কথা বলব।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom