শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে- ঝিনাইগাতীতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে জমি বেদখলের অভিযোগ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে 103-run hammering: CSK hand MI their biggest IPL defeat as Sanju Samson, spinners lead rout | Cricket News Yami Gautam Learnt Quran For Haq, Reveals Director; Avinash Tiwary Says Marriage Deadline Is 2026-End | Bollywood News প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রথম নারী মহাপরিচালক নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রথম নারী মহাপরিচালক নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রথম নারী মহাপরিচালক নিয়োগ IPL 2026: ‘He’s in my pocket’- Jadeja on his cheeky celebration after dismissing Pooran | Cricket News দৌলতপুরে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

স্বপ্নজয়ী এক নারী উদ্যোক্তার নাম মোকসেদা !

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৮
  • ২৬৮ সময় দেখুন
স্বপ্নজয়ী এক নারী উদ্যোক্তার নাম মোকসেদা !


স্বপ্নজয়ী এক নারী উদ্যোক্তার নাম মোকসেদা !

বিয়ের দশ বছরের মাথায় স্বামী চলে যান না ফেরার দেশে। আর অল্প বয়স্ক মোকসেদা বেগমের কাধেঁ পড়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অথৈ সমুদ্রে একলা নাবিক তিনি। শশুর বাড়িতে ঠাঁই হয় না। আত্ম সম্মানের কথা ভেবে বাবার বাড়িতেও যেতে নারাজ মোকসেদা। স্রোতের বিপরীতে দাড়ঁ বেয়ে সন্ধান করেন কূলের।

সেরা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে হস্তশিল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ, দেশের শ্রেষ্ঠ তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রাপ্তিই কেবল নয়, অসাধারণ জীবনের গল্প রচনা করেছেন যে নারী, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মোকসেদা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র হাওলাদার মার্কেটে “অনন্যা” নামে তার বুটিক হাউজটি প্রতিবারের মতো এবারও সরগরম ছিলো ঈদ মৌসুমে।

মোকসেদার আজকের অবস্থানে আসার গল্পটা রীতিমতো এভারেস্ট জয়ের মতো। অল্পবয়সে একদিন স্কুল থেকে এসে নিজের বিয়ের কথা শুনে বিমর্ষ হয়ে পড়েন কিশোরী মোকসেদা। কোনো কিছু বলার বা মতামত দেয়ার ফুরসতটুকুও সেদিন দেয়া হয়নি তাকে।

যে বয়সে এ-গ্রাম ও-গ্রাম বেণি দুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা, আর এ বয়সে বসতে হয়েছে বিয়ের পিড়িতে। অপ্রত্যাশিতভাবেই বউ সেজে যেতে হয় শশুর বাড়িতে। গল্পটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দ নগর মুনসির হাট গ্রামের মোকসেদা বেগমের।

বিয়ের দশ বছরের মাথায় স্বামী চলে যান না ফেরার দেশে। আর অল্প বয়স্ক মোকসেদা বেগমের কাধেঁ পড়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অথৈ সমুদ্রে একলা নাবিক তিনি। শশুর বাড়িতে ঠাঁই হয় না। আত্ম সম্মানের কথা ভেবে বাবার বাড়িতেও যেতে নারাজ মোকসেদা। স্রোতের বিপরীতে দাড়ঁ বেয়ে সন্ধান করেন কূলের।

স্থানীয় এক এনজিওতে ছোট্ট কাজ জোটে তার। এতে সংসার ভালো চলছিলো না। অভাব আর নিঃসঙ্গতা তাকে সবসময় তাড়া করছিলো। এক সময় পরিকল্পনা করেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে।

যেই ভাবনা সেই কাজ। আত্মপ্রত্যয়ী মোকসেদা শুরু করেন স্বপ্নের ফুল ফোটাতে। সে জন্য পুঁজি ও কারিগরি শিক্ষা দুটোরই প্রয়োজন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ছয় মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন, আর সংগঠিত করেন তারই এলাকার ১০ জন অসহায় নারীকে। পুঁজি আর জনবল নিয়ে ২০০০ হাজার সালে শুরু করেন ‘অনন্যা শিল্প’ নামে ক্ষুদ্র একটি সেলাই কারখানার যাত্রা। আর এখন নকশী কাঁথা থেকে শুরু করে বালিশের কুশন, মহিলাদের ব্যাগ, বেড সীট, টুপি, মোবাইল ব্যাগ ইত্যাদি পণ্য তৈরি করছেন মোকসেদা।

তবে গল্পটি যত সহজে বলা গেল বাস্তবতা অতটা মসৃণ ছিলোনা মোকসেদার জন্য। চোখ মুছে মোকসেদা বলেন, “নারী হিসেবে ব্যবসা করার বিষয়টি সমাজ খুব সহজ ভাবে মেনে নেয় না। তাও আবার গ্রামের মত জায়গা। পরিবার থেকেও সে সময় কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। স্বামী মারা যাওয়ার সময় তেমন কোন সম্পদ রেখে যাননি। তাই অর্থই সে সময় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।”

তবে যুব উন্নয়ন ও বিসিক অনেকটাই সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে তার জীবনে। ঢাকার বিভিন্ন হস্ত শিল্প মেলার জন্য পণ্য বানানোর মধ্যে দিয়ে শুরু করেন। সে সময় দৃঢ় মনোবল ও সাহসই ছিল তার বড় সঙ্গী।

মোকসেদা বেগমের বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়া হলে শোনা গেল তৃপ্ত কন্ঠ। তিনি বলেন, “বর্তমান আমার এ প্রকল্পে কাজ করছে ২’শ নারী। এখন মেলার পাশা পাশি ঢাকার বিভিন্ন শোরুমে পাইকার হিসেবে পণ্য সরবরাহ করি। এ ছাড়া বিজিবি বা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দোকানেও আমার পণ্য যায়। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও শহরে একটি শোরুম দিয়েছি। অনন্যা হস্ত শিল্পের পণ্যের এখন চাহিদা অনেক বেশি। কারণ আমি নিজেই তাঁতির কাছে কাপড় বানিয়ে তার ওপর নকশা করি। যার কারণে আমার বানানো পণ্য কোথাও পাওয়া যায় না। তবে এ ব্যবসাকে আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।”

বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পেছনে সব চেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা অর্থ ও দিক নির্দেশনার অভাব – এমনটাই মনে করেন মোকসেদা বেগম। তিনি জানান, আসলে ব্যবসায় নামতে হলে কোন মাধ্যম থেকে পুঁজি ব্যবস্থা করা যাবে, সেটাই জানেন না অনেক নারী। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিলে টানতে হয় চড়া সুদ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ সেবার তথ্য ভালো ভাবে পৌছানোর ওপড় গুরুত্বারোপ করেন মোকসেদা। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অর্থের জোগান হলেই হবে না। পণ্যের সঠিক বাজার জাতের পদ্ধতিও জানতে হবে।

নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর পাশাপাশি মোকসেদার ঝুলিতে রয়েছে বেশ কিছু স্বীকৃতিও। ২০১১ সালে তিনি হস্ত শিল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতীয় পুরষ্কার গ্রহণ করেছেন। ২০১৩ সলে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাস রুট উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস, বাংলাদেশ’ মোকসেদাকে তুলে দেয় শ্রেষ্ঠ তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা জয়িতা পুরস্কারও পেয়েছেন নিজের অগ্রণীয় ভুমিকার জন্য।

তার ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা মোল্লাদের মত বিশিষ্টজনের ভাষ্যমতে, মোকসেদা এখন নারীর সংগ্রাম জয়ের একটা প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

মোকসেদা বেগম শুধু নিজের অবস্থানের পরিবর্তন করেই ক্ষান্ত নন, স্বপ্ন দেখেন অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর। তিনি বলেছেন, “সংগ্রাম করে এ পর্যন্ত এসেছি। বাকি জীবনটাও সংগ্রাম করে কাটিয়ে দেব অসহায়দের পাশে থেকে।”





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom