হাসপাতালটি তৈরি করা হয়েছে পোড়া রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন সরকারি দপ্তরগুলোতে আলোচনা চলছে বার্ন নয়, বরং এটিকে জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে। কারণ, রাজধানীতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নামে একটি হাসপাতাল ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। সুতরাং নতুন করে আরেকটি বার্ন হাসপাতালের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
হাসপাতালটি চালু করতে বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালটি ৫০ বেডের করা হবে। এর মধ্যে ১০ শয্যা থাকবে আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য। বাকি ৪০ শয্যা থাকবে জেনারেল হাসপাতালের জন্য।
জানতে চাইলে এই প্রকল্পের উদ্যোগী মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘এই বিভাগে আমি নতুন যোগ দিয়েছি। হাসপাতাল সম্পর্কে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত হাসপাতালটি চালু হোক। সে জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বার্ন হাসপাতাল হবে, না কি জেনারেল হাসপাতাল হবে, জনবল কীভাবে নিয়োগ হবে—এসব বিষয় তারা ঠিক করে প্রতিবেদন দেবে। সে আলোকে আমরা কাজ করব।’
মিরপুর ১০ নম্বরে ফায়ার সার্ভিসের জায়গায় যেখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি আগে মাঠ ছিল। মাঠটি শিক্ষানবিশ ফায়ারম্যানদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হতো। ভবন নির্মাণের পর থেকে মাঠের আকার সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে প্রশিক্ষণরত ফায়ারম্যানদের জন্য স্থান সংকুলান করা যাচ্ছে না। সে কারণে হাসপাতালটি এখন অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দাবি, হাসপাতালটি বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিবর্তে জেনারেল হাসপাতাল করতে হবে। এর মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবেন তাঁরা। কারণ, এতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও চিকিৎসা নিতে পারবেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, চার বছর ধরে একটা হাসপাতাল ও যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। অপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চিকিৎসক, নার্সের নিশ্চয়তা না পেয়েই কীভাবে একটা হাসপাতাল হয়ে গেল?