মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কর্মশালায় বক্তারা / দেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ, এফওপিএল নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীরা সচেতনতা কার্যক্রমে জাতীয় স্বীকৃতি, সেরা চারে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ইরানের হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত, আহত ৮ ‘We were talking at nets about…’: Shubman Gill opens up on 2027 World Cup planning with Virat Kohli | Cricket News ‘মাদকের মূল হোতারা বসে সংসদে, ধরা পড়ে কেবল বাহকরা’ Ranveer Singh To Begin Pralay Shoot In August?; Varun Badola Calls Satluj Ban ‘Robbery Under Broad Daylight’ | Bollywood News ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর দিলো হোয়াটসঅ্যাপ ‘মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ৯২ শতাংশই চিকিৎসা করেন না’ সিরির নতুন রূপ: বদলে যাচ্ছে আইফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট

কেমন আছে আপনার দেহের বৃহত্তম ও ভারি অঙ্গটি?

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৯৭ সময় দেখুন
কেমন আছে আপনার দেহের বৃহত্তম ও ভারি অঙ্গটি?


ডা. মোখলেছুর রহমান

লিভার বা যকৃত হলো মানব শরীরের বৃহত্তম এবং ভারি অঙ্গ। মস্তিষ্কের পর এটি মানবদেহের সবচেয়ে জটিল অঙ্গও বটে। আপনার শরীরের হজম প্রক্রিয়া সাধনে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান কাজ হল রক্তে রাসায়নিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া এটি শরীরে বাইল নামের এক ধরণের পদার্থও বহন করে যা কিনা যকৃত থেকে সব ধরণের বিষাক্ত বর্জ্য দূর করতে সাহায্য করে। লিভার সংক্রান্ত রোগ থেকে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর ১৯ এপ্রিল বিশ্ব যকৃৎ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

পেট ও অন্ত্র থেকে যে রক্ত বের হয় তা যকৃতের মধ্য দিয়েই পরিবাহিত হয়। লিভার এই রক্তকে প্রক্রিয়াকরণ করে এবং শরীরের বাকি অংশের জন্য পুষ্টির যোগান দেয়। তাই একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সবার আগে তার লিভার সুস্থ থাকা প্রয়োজন।

যদি লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তবে বিষাক্ত পদার্থগুলো বর্জ্য হয়ে আর বের হয়ে আসতে পারবে না, সেখানেই থেকে যাবে। আর এতে শরীরে গুরুতর কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি কারও লিভারে কোন সমস্যা দেখা দেয় তখন সেটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হতে শুরু করে। রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। আপনার লিভার ব্যর্থ হলে আপনার মস্তিষ্কও ফুলে যেতে পারে।

কিন্তু কি করে বুঝবেন যে আপনার লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে?

যদি শরীরে কিছু লক্ষণ দেখতে পান তাহলে ধরে নিতে পারেন যে আপনার লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এবং সেটি আপনার বর্তমান জীবনধারার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে না। আর সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করা শুরু করতে হতে পারে।

১. রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাবে
লিভারের প্রধান দায়িত্ব হল রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখা। যদি আপনার যকৃত গুরুতরভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। খাবার খাওয়ার পর লিভার আপনার শরীরে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ করে। কিন্তু যদি আপনার রক্তের মধ্যে গ্লুকোজ উৎপন্ন করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে আপনার শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করবে। ত্রুটিযুক্ত লিভার রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় যা ক্লান্তি সৃষ্টি করে।

২. শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
আপনার লিভার আপনার লিঙ্গের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার লিভার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, এটি টেসটোসটাইন এবং ইস্ট্রজেন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা তৈরী করতে পারে। এটি তখন গুরুতর পিএমএস সিমটমস এবং লো লিবিডোও এর মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

৩. অপ্রত্যাশিত মানসিক অস্থিরতা
আপনার লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, এটি তখন রক্তকে সঠিকভাবে ফিল্টার করতে পারে না। আর তখন টক্সিন পুরো শরীর জুড়ে ঘুরপাক খেতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, জীবাণু আপনার মস্তিষ্কে পৌছে যেতে পারে। আর এটি যখন ঘটে তখন আপনার স্মৃতিভ্রম হতে শুরু করে, মনের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকক্ষেত্রে উদ্বেগ এবং বিষন্নতা গুরুতরভাবে যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যদি আপনি আপনার মেজাজে অযাচিত কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন এবং স্মৃতিভ্রম হতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত একজন পেশাদার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
লিভার শরীরের জন্য যে পুষ্টি সরবরাহ করে তা সংক্রমণের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি বিষক্রিয়াগত সংক্রমণ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। যদি আপনার লিভার তা করতে না পারে, তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে ।

৫. ঘুমের সমস্যা
অনেককেই দেখা যায় ঘুমের মধ্যে প্রচণ্ড নাক ডাকেন। কখনও কি ভেবে দেখেছেন এই নাক ডাকার পিছনে আসল কারণ কি? এর প্রধান কারণ হলো আপনি যে নাসিকা দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাসের চেষ্টা করছেন সেটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যার ফলে আপনি এখন নাক ডাকছেন। আপনার নাসিকা ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য ব্লক হয়ে যেতে পারে। আর এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে আপনার লিভার পরীক্ষা করানো উচিত।

লিভার সুস্থ রাখার উপায়

খাবার তালিকায় ফল এবং সবজি যোগ করতে শুরু করুন। সঠিকভাবে কাজ করার জন্য লিভারের ভিটামিন এবং খনিজ প্রয়োজন। ফল এবং সবজি ছাড়া এমন কোন খাদ্য নেই যাতে এত বেশি ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান।

নিয়মিত অত্যাধিক পরিমাণে অ্যালকোহল পান করার ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অ্যালকোহল পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। যকৃতকে অ্যালকোহল দিয়ে ওভারলোডিং করা খুব মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এই ক্ষতি অপূরণীয়। তাই এখনই অ্যালকোহল পান করা কমিয়ে দিন। নিজে থেকে অ্যালকোহল পান থেকে সরে না আসতে পারলে প্রয়োজনে পেশাদার ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

লেখক: চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

সারাবাংলা/এসবিডিই





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom