শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দুই হাত হারালেন তরুণ সোহান হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, থানায় অভিযোগ শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্পের অংশগ্রহণমূলক শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪৬৩ ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর উপায় সীমান্তের বেকার তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিজিবির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত Ramayana: Ranbir Kapoor Is Ram, Yash Is Ravana And Sunny Deol Is Hanuman CWG 2026: Dilip Mahadu Gavit and Mohammed Basil script historic 1-2 finish for India in men’s 100m T47 final | Commonwealth Games News জাল সনদে চাকরি, বেরোবি কর্মকর্তা বরখাস্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকতে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: ডা. জাহিদ

চন্দ্রায় শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ,টিকিট না পেয়ে মহাসড়কে দিশেহারা লক্ষাধিক যাত্রী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২১৪ সময় দেখুন
চন্দ্রায় শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ,টিকিট না পেয়ে মহাসড়কে দিশেহারা লক্ষাধিক যাত্রী

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর,(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

ঈদুল আজহার ঠিক আগমুহূর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় ঈদযাত্রার চাপ সামলাতে শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এতে টিকিট না পেয়ে লক্ষাধিক যাত্রী মহাসড়কে এলোমেলোভাবে ছুটছেন। সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগ।
কাউন্টার বন্ধে ভেঙে পড়েছে শৃঙ্খলা।সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঈদযাত্রার চাপ বাড়তে শুরু করে। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ একযোগে শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার সচল থাকলে তারা টিকিট কেটে নিয়ম মেনে বাসে উঠতে পারতেন। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় এখন যাত্রীরা মহাসড়কের ওপরই বাসের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে, যানজট আরও তীব্র হয়েছে।
রংপুরগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,টিকেট কেটে বাসে উঠলে কোনো ঝামেলা হতো না। এখন কাউন্টারই বন্ধ। বাস ধরতে রাস্তায় দৌড়াতে হচ্ছে। মহিলা, শিশু নিয়ে কীভাবে যাব? এটা কি শৃঙ্খলা ফেরানো হলো?
উত্তরবঙ্গের ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রবাস স্টেশন প্রবেশমুখে যানজটের দীর্ঘ সারি
চন্দ্রা এলাকা উত্তরবঙ্গের ২৫ জেলার একমাত্র প্রবেশমুখ। ঈদের সময় এখান দিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ মানুষ বাড়ি ফেরেন। কাউন্টার বন্ধের পর যাত্রীরা সড়কের ওপর জড়ো হওয়ায় চন্দ্রা-নবীনগর ও চন্দ্রা-গাজীপুর সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আটকে আছে। এর মাঝেই হাতে ব্যাগ-বস্তা, শিশু কোলে নিয়ে হাঁটছেন হাজারো যাত্রী। গণপরিবহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে করে ঝুঁকি নিয়ে রওনা দিচ্ছেন।
পুলিশের দাবি, অবৈধ কাউন্টার ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছিল। শৃঙ্খলা ফেরাতেই কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নাওজোড় থানা পুলিশ জানায়, চন্দ্রা এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসার সদস্য এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্বলা বাহিনীর সদস্য সহ প্রায়১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
তবে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, কাউন্টার বন্ধ করে দিলে শৃঙ্খলা ফিরবে কীভাবে? বরং টিকিটবিহীন যাত্রীরা মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের মতে, কাউন্টার নিয়ন্ত্রণে রেখে সচল রাখলেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব ছিল।
যাত্রীদের দাবি: নিয়ন্ত্রিত কাউন্টার চালু হোক।প্রশাসনের কাছে যাত্রীদের একটাই দাবি, কাউন্টার বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে সচল রাখা হোক। এতে যাত্রীরা টিকিট কেটে শৃঙ্খলা মেনে বাসে উঠতে পারবেন,কমবে মহাসড়কের ওপর বিশৃঙ্খলা।
স্থানীয়রা বলছেন, ঈদের সময় প্রতিবছরই চন্দ্রায় যানজট ও ভাড়া নৈরাজ্য দেখা দেয়। এবার কাউন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
প্রশাসনের আশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বাস্তবে মাঠে সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হলে কাউন্টার বন্ধের মতো একতরফা সিদ্ধান্ত নয়, বরং যাত্রী, পরিবহন মালিক ও প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom