জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন চার সদস্য।
নির্বাচনের একদিন আগে সোমবার (৯ মার্চ) দেওয়া ওই চিঠিতে সমিতির সদস্য ও সমকালের প্রতিনিধি তারেক হোসেন, সময়ের আলোর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সাগর, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি সাকিব আহমেদ এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সদ্য প্রকাশিত সদস্য ও সহযোগী সদস্যদের তালিকায় বেশ কিছু ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কয়েকটি অনিবন্ধিত ও তুলনামূলকভাবে অল্প পরিচিত গণমাধ্যম—বিপ্লবী বার্তা, ব্রেকিংনিউজ ডটকম, ঢাকা টুডে ডটকম, দৈনিক মুক্ত সমাচার, ইনসাইট ঢাকা ও নিউজ ভিশনের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সদস্য তালিকায় রাখা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি রিফাত বিন নূর, টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে এম জাদিদ বিন খালিদ এবং বাংলাদেশ টুডের প্রতিনিধি নাজমুল হাসান সিয়াম সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছেন এবং সব মানদণ্ড পূরণ করেছেন, তবুও তাদের সদস্য করা হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সদস্য তালিকা প্রকাশের এক দিনের মাথায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এতে সাংবাদিক সংগঠনের আড়ালে একটি ‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থে একটি ‘পকেট কার্যকরী কমিটি’ গঠনের চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় বিতর্কিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিযোগকারীদের একজন বলেন, ‘সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে সমঝোতার ভিত্তিতে শীর্ষ পদগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন হবে কেবল কার্যকরী সদস্য পদে। এবার সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৬ জন।’
এ কারণে ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করতে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চিঠির অনুলিপি সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক নাহিদ আখতারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবু সাঈফ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী বলেন, ‘আমি আবেদনপত্রটি পেয়েছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনিয়ম হয়ে থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তিনি এ বিষয়ে সমিতির নেতারা, নির্বাচন কমিশন ও উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।