বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীবাড়ী ইসলামী ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ঢাকার বার্তা মোদিকে জানাতে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৪ ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় Bigg Boss 20’s ScoutOP Hints At Feelings For ‘Sister’ Love Gill: ‘Usse Pehle Friend Hota Hai Naa…’ | Television News Head coach Zinedine Zidane celebrates first home win as France crush Belgium 4-1 at Nations League | Football News কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও মশক নিধন সামগ্রিক বিতরণ কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন ‘আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’

জীবনযাপনের পরিবর্তন কমিয়ে আনে হৃদরোগের ঝুঁকি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৫২ সময় দেখুন
জীবনযাপনের পরিবর্তন কমিয়ে আনে হৃদরোগের ঝুঁকি


লাইফস্টাইল ডেস্ক

পৃথিবীর বেশিরভাগ মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। প্রতিবছর সারাবিশ্বে হৃদরোগে মারা যায় প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ। এর বড় অংশই (৮৫ শতাংশ) হার্ট অ্যাটাক বা হুদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খান না তারাই এসব ঘটনার শিকার। যদিও কার কখন হার্ট অ্যাটাক হবে তা বলা খুবই কঠিন, কিন্তু জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন এনে হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদরোগের ‍ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান
হার্ট বা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ্য রাখতে প্রথমেই যে বিষয়টি অনেক বেশি জরুরি তা হলো নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার। ‍সুস্থ্য থাকা বিশেষ করে হার্টের যেকোন রোগ প্রতিরোধের জন্য সবার আগে জরুরি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিন আপনি যে ধরনের খাবার খাচ্ছেন তা শরীরের কোলেস্টেরল লেভেল, রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ্য থাকতে নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সম্মৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

কর্মব্যস্ত থাকুন
দীর্ঘ আয়ু ও রোগমুক্ত জীবনের জন্য নিজেকে সবসময় কর্মব্যস্ত রাখুন। প্রতিদিনের কাজের বাইরেও নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এটি আপনাকে সবসময় কর্মব্যস্ত থাকতে সাহায্য করবে। তবে এরজন্য জিমে যাওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই। বাড়িতেও নিয়ম করে ব্যায়াম করা যায়। খুব বেশি সময় যেনো শুয়ে বসে কাটানো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাসাবাড়ির কাজে আগের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করুন অথবা বাইরে হাঁটতে বের হোন। ইয়োগাও অনুশীলন করতে পারেন। সম্ভব হলে হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখার কিছু ব্যায়ামও নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন। এসব ব্যায়াম হৃদযন্ত্রের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটি হৃদযন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দেয় যার কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আবার রক্তচাপ কমে গেলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। সেজন্য নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত হৃদরোগ বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে ধমনী ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস আছে এমন ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৬৮ শতাংশই হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। তাই সুস্থ্য থাকতে সপ্তাহে দু’বার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন এবং এমন খাবার খান, যা গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
চর্বি ও প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরি কোলেস্টেরল আমাদের শরীরে স্বাস্থ্যকর কোষ গঠনে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। কিন্তু কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি আবার শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে। খারাপ কোলেস্টেরলগুলো ধমনীতে গিয়ে জমা হয়। যার কারণে শিরায় রক্তচলাচলের জায়গা কমে যায়। এরফলে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থ্যতা একে অপরের পরিপূরক। অনেক বেশি মানসিক চাপ মস্তিষ্কের কিছু জায়গার কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দেয় যা মানুষের আবেগ, অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই যতটুকু সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। ইয়োগা ও মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা সমস্যা আছে এমন মানুষগুলো অন্যান্যদের চেয়ে বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী এবং এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সুস্থ্য জীবনযাপনের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান।

অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। এর কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও অনেক বেশি বেড়ে যায়, যার কারণে ওজন বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁড়ি বেড়ে যায়। আপনি যদি নিয়মিত অ্যালকোহল পান ও ধূমপান করেন তাহলে ধীরে ধীরে তা কমিয়ে দিন। কারণ এটি আপনার সুস্থ্য জীবনযাপনের অন্যতম অন্তরায়।

উপরের বিষয়গুলো ছাড়াও বয়স, লিঙ্গ, বংশগত ও পারিবাররিক স্বাস্থ্য ইতিহাসের মতো বিষয়গুলোও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা খুবই কঠিন, কিন্তু সুস্থ্য জীবনযাপনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

সারাবাংলা/এসএসএস





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর