শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

পদত্যাগ না করায় যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবন-উপাচার্যের বাসভবনে তালা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪
  • ১১৩ সময় দেখুন


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

যশোর: আল্টিমেটাম দেয়ার পরও পদত্যাগ না করায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন ও উপাচার্যের বাসভবনে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনসহ তার অনুসারীদের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন ঘোষণা করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. ইকবাল কবির জাহিদসহ উপাচার্যের অনুসারীদের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন। ওই দিন একই দাবিতে যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শেখ হাসিনা ম্যুরাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের বঙ্গবন্ধুর নাম ও বঙ্গবন্ধু একাডেমিকের গ্যালারির সামনে ছবি ভাস্কর্য্য ভাঙচুর করেন বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে যবিপ্রবি উপাচার্যকে শনিবারের মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১৭ আগস্ট) বেলা বারোটায় যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল ‘মার্চ টু প্রশাসনিক ভবন’ শুরু করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ থেকে মিছিল সহকারে ভিসির বাসভবন ও প্রশাসনিক কার্যালয় তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. ইকবাল কবির জাহিদসহ উপাচার্যের সব অনুসারীদের পদত্যাগের জোর দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি আনোয়ার স্বৈরাচারী কায়দায় এই বিশ্ববিদ্যালয় চালিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো কাজ নেই তিনি অনিয়ম দুনীর্তির মাধ্যমে করেননি। এই দুনীর্তি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চক্র তৈরি করেছে। বিভিন্ন সময়ে যারা প্রতিবাদ করেছে, সেই শিক্ষক, কর্মচারী শিক্ষার্থীদের তিনি গোয়েন্দা সংস্থার লোক, পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও নাজেহাল করেছেন। তাই গত দুদিন আগে তাকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম আমরা। তবে সেই আল্টিমেটামের পরেও তিনি পদত্যাগ না করায় আজ তালা লাগিয়েছি এবং শাটডাউন ঘোষণা করেছি।

পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উসামাহ বলেন, আমাদের একটাই দাবি আমরা স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের মদদপুষ্ট দালাল ভিসি আমরা চাই না। কারণ উনি কখনোই শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য ছিলেন না। আমরা উপাচার্যসহ সব দালাল সিন্ডিকেটকে বলতে চাই আপনারা স্ব-সম্মানে পদত্যাগ করুন।

ফিজিওথ্যারাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষার্থী ফরিদ হাসান বলেন, এই ক্যাম্পাসে যে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন তাদেরকেও স্ব-সম্মানে পদত্যাগের দাবি জানাই। শিক্ষার্থীদের পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষনাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় তাই আমরা এই ক্যাম্পাসে কোন ধরণের রাজনীতি চাই না।

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী আকিব ইবনে সাইদ বলেন, পদত্যাগের বিষয়ে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমরা সেই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদেরকেও ছেড়ে দেবো না যারা ডিনস্ কমিটিতে বসে শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় সেই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকরা আধিপত্য দেখিয়েছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কারো বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া গেলে তাকে ছেড়ে দেবে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই মুহূর্তে পদত্যাগের বিষয়ে তার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ তিনি ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক। ভর্তি প্রক্রিয়ার ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ৩ শতাংশ শেষ করতে পারলে দায়মুক্ত হবেন। এরপর কী করবেন ভেবে দেখবেন। তবে সরকার চাইলে তিনি ভেবে দেখবেন।’

সারাবাংলা/এনইউ





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর