শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

ভালুকায় দিপু দাস হত্যা: লাশ পোড়ানোয় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন গ্রেপ্তার – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৫ সময় দেখুন
ভালুকায় দিপু দাস হত্যা: লাশ পোড়ানোয় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন গ্রেপ্তার – Corporate Sangbad


নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ডিবি পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার এড়াতে ইয়াছিন গত ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যান্যদের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতও নেতৃত্ব দেন। হত্যা সংগঠিত হওয়ার পর ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি সুফফা নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

পূর্ববর্তী তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সংঘটিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেফতারকৃত আসামীদের জবানবন্দির সাথে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত ৯টার দিকে দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছে। ৯ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ১৮ জন আসামীকে ইতোমধ্যে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom