বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

ভাড়াটে খুন আর ডাকাতিই ছিল পেশা!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
  • ১৯৪ সময় দেখুন
ভাড়াটে খুন আর ডাকাতিই ছিল পেশা!

চট্টগ্রামের রাউজানে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৭ আগস্ট) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নস্থ পলোয়ান পাড়া এলাকার একটি বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করে সশস্ত্র এ সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসপির নেতৃত্বে আভিযানিক দলকে উপস্থিত হতে দেখে সেখান থেকে ৭/৮ জন ব্যক্তি হুড়োহুড়ি করে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় আভিযানিক দলের সদস্যরা ৩ ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ২ টি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, ইতালি নির্মিত ১ টি ৭.৬৫ সেমি অটোমেটিক পিস্তল এবং ৪৫ রাউন্ড একে-২২ এর বুলেট, ৮ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম বুলেট ও ১০ রাউন্ড অজ্ঞাত অস্ত্রের বুলেট জব্দ করা হয়। এছাড়াও সেখান থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

আটক আসামিরা হলেন, মো. নুরুল আবছার (৪৩), পিতা-মৃত গোলাম হোসেন, কামরুল হাসান টিটু (৫৫) পিতা- মৃত আবুল কাশেম উভয় সাং নোয়াপাড়া, থানা- রাউজান, জেলা- চট্টগ্রাম এবং গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম (৩০) পিতা- মৃত কামাল উদ্দিন সাং কুয়াইশ ( বাদামতল), থানা- হাটহাজারী, জেলা- চট্টগ্রাম। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত মো. নুরুল আবছারের তথ্য মোতাবেক তাকে নিয়ে তার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ১ টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ১ টি এক নলা বন্দুক, একটি এলজি বন্দুক এবং বিপুল পরিমাণ তাজা বুলেট ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কামরুল হাসান টিটু ও নুরুল আবছার বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। টিটুর উত্থান এনডিপি’র ক্যাডার হিসেবে। এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগি হিসাবে কাজ করতেন। তখন থেকে এলাকায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজী ও ডাকাতির মত র্দুধর্ষ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্প লুট ও পুলিশ হত্যা, চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যা ও নোয়াপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হত্যাসহ ৮টি খুনের মামলা, ১টি ডাকাতি, ও ৬টি অপহরণ মামলাসহ কমপক্ষে ১৭টি মামলা রয়েছে মর্মে জানা যায়। ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডান পা হারানোর পর থেকেই ডাকাত ও ভাড়াটে খুনি চক্রের সংগঠক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে মো. নুরুল আবছার ও গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম মূলত কাজ করেন টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ও ডাকাত হিসেবে। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর