এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শুরু থেকে তাঁরা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ গ্রামের সাধারণ রোগী আইসিইউতে পাচ্ছেন; যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হবেন, এমনটা ভাবতেও পারেননি। তিনি বলেন, আইসিইউ ফ্রি। কিন্তু করোনায় শরীর প্রচণ্ড দুর্বল করে দিয়ে যায়, সে সময় অতিরিক্ত পুষ্টির দরকার। অক্সিজেন থাকার কারণে মুখে খেতে পারে না। তখন দামি স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হয়। কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। কিছু পরীক্ষাও হাসপাতালে হয়। তবে দামি পরীক্ষাগুলো বাইরে করাতে হয়। এই খরচ জোগাড় করতেই দরিদ্র রোগীদের স্বজনেরা হিমশিম খাচ্ছেন।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল আরও বলেন, এবারের ডেলটা ভেরিয়েন্টের কারণে যাঁদের আইসিইউ লাগছে, তাঁদের আরও ৩–৪ সপ্তাহ পোস্ট কোভিড চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও সম্পূর্ণ বিশ্রামের ব্যাপারে শৈথিল্য—এগুলো মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
হাসপাতালের খাতায় রোকেয়া খাতুনের ডাকনাম লেখা আছে বেবী। বয়স ৫৫ বছর। তাঁর বাড়ি নাটোরের চকরামপুরে। তাঁর স্বামী আবদুল মতিন মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনের একটা চাকরি করেন। এ চাকরি সরকারি নয়। তাঁরা ১১ দিন ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। তাঁর জামাতা ফজলুল ইসলামসহ তিনজন লোক সঙ্গে রয়েছেন। তাঁদেরও খরচ আছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। জামাতার ভাষায়, এই টাকা এর-ওর কাছ থেকে ধার করে এনেছেন। এই চিকিৎসায় তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।