শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

সর্বাত্মক কর্মবিরতির অষ্টম দিনে অবস্থান কর্মসূচি রাবি শিক্ষকদের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪
  • ১০৫ সময় দেখুন
সর্বাত্মক কর্মবিরতির অষ্টম দিনে অবস্থান কর্মসূচি রাবি শিক্ষকদের


রাবি করেসপন্ডেন্ট

রাজশাহী: সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ প্রত্যাহার ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে অষ্টম দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরা। রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এসময় তারা তিনটি দাবি উল্লেখ করেন। তাদের দাবি তিনটি হলো- প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন।

কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে আমরা ভেবেছিলাম এ সপ্তাহে আর আমাদের দাঁড়ানো লাগবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের এখনো দাঁড়ানো লাগছে। আমি মনে করি আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনাও দরকার। এই আন্দোলন কতদিনে থামবে তা জানি না। কিন্তু এটা জানি প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের নাম বাতিল এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ছাড়া শিক্ষকদের আর ঘরে ফেরার উপায় নাই। শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা প্রায়ই শিক্ষকদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যেটা এর আগেও আমরা দেখেছি। তারা বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে শিক্ষকদের চাপে রাখতে চাচ্ছে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক সরকার বলেন, আমাদের পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা ভালোই ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যয় স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আমি মনে করি তারা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট না জেনেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রত্যয় স্কিম একটি প্রতারণা এবং বিভ্রান্তিমুলক প্রকল্প। এখানে এক পার্সেন্ট শিক্ষকও থাকতে চায় না,,যেটা অবস্থানের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে, টকশোর মাধ্যমে বার বার জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার হুশ নেই।

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসী বলেন, শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষক হচ্ছেন জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। কিন্তু আমরা কাঙ্ক্ষিত সম্মান পাচ্ছি না। কোনো দেশে আমলারা যখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলে যায় তখন রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সংঘাত ঘটে। ছাত্রসমাজের সংঘাত ঘটে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক সরকারের সঞ্চালনায় এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের পর থেকে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার চাকরিতে যারা নতুন যোগ দেবেন, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থার মতো আর অবসরোত্তর পেনশন-সুবিধা পাবেন না। তার পরিবর্তে নতুনদের বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশনের আওতাভুক্ত করা হবে। এটি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও লাগাতার কর্মসূচি করে আসছেন।

সারাবাংলা/আইই





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর