মামলার বাদী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (৪২) পেশায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় তাঁর একটি গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ফ্যাক্টরি রয়েছে। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন যে, পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন রূপনগর ক্লাব সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকার নাহার ভিলার ফ্ল্যাট নং-এ/১, ফ্ল্যাট নং-বি/১ এবং ফ্ল্যাট নং-সি/১-এ তিনি স্বপরিবারে বসবাস করেন। তন্মধ্যে ফ্ল্যাট নং-এ/১-এ বাদী, তাঁর স্ত্রী ও ০২ কন্যা সন্তান, ফ্ল্যাট নং-বি/১-এ তাঁর বাবা-মা, মেজ বোন ও তাঁর মেয়ে এবং ফ্ল্যাট নং-সি/১-এ তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ০২ জন গৃহকর্মী বসবাস করেন। প্রতিদিনের ন্যায় ইং ০৭/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ০০:৩০ ঘটিকার সময় সবাই রাতের খাবার গ্রহণ শেষে দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে একই তারিখ রাত আনুমানিক ০৪:০০ ঘটিকার সময় বাদীর কন্যা জারিকা ইমানী বিনতে ইউসুফ (৪.৫) বাসার ভেতরে সন্দেহজনক কাউকে দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে বাদীসহ পরিবারের সকল সদস্য ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। অতঃপর তারা দেখতে পান যে, ফ্ল্যাট নং-বি/১-এর ড্রয়িংরুমের জানালার রড ভাঙা এবং ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কক্ষের মালামাল মেঝেতে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তখন বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ০৩টি ফ্ল্যাটের বিভিন্ন মালামাল খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান যে, ফ্ল্যাট নং-এ/১-এর বেডরুমের আলমারির ড্রয়ারে থাকা (ক) ০২টি স্বর্ণের চুড়ি, ওজন-০৪ ভরি, (গ) ০১টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ওজন-০১ ভরি, (ঘ) ০৪টি রুপার কয়েন, ওজন-০৪ ভরি, (ঙ) ০১টি ডায়মন্ডের আংটি, ওজন-০১ ভরি, (চ) ০১টি রুপার চেইন ও ০১টি রুপার আংটি, ওজন-২.৫ ভরি, (ছ) ০৪টি বিদেশি লেডিস পার্স ব্যাগ, (জ) নগদ-৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস; ফ্ল্যাট নং-বি/১-এর আলমারির ড্রয়ারে থাকা (ক) ০২টি অপ্পো ও স্যামসাং কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, (খ) ০১টি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন; এবং ফ্ল্যাট নং-সি/১-এর টেবিলের ড্রয়ারে থাকা (ক) বিভিন্ন ডাক্তারি সরঞ্জাম, (খ) ০১টি লেডিস পার্স ব্যাগ যথাস্থানে নেই। বাদীর এজাহারের প্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং-০৮, তাং-১০/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড-১৮৬০ মোতাবেক রুজু করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে এসআই মো. রিয়াদ উছ সালেহীন, সঙ্গীয় এসআই আল-আমিন খান, এসআই শওকত ইমাম এবং অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সসহ ইং ১৫/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত ২৩:০০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন মীরেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো: খোরশেদ (৩০)-কে গ্রেফতার করেন। এ সময় তার হেফাজত হতে চোরাইকৃত ০১টি অপ্পো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ০১টি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি মো: খোরশেদ (৩০)-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে৷ ইং ১৬/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সকাল ০৮:১৫ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাধীন কোনাগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ইসমাইল হোসেন (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। অতঃপর গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইং ১৬/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত ২১:৩০ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী থানাধীন একটি স্বর্ণের দোকান হতে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারের ০৪ ভরি ০৯ আনা ওজনের গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। একই তারিখ রাত আনুমানিক ২৩:৪৫ ঘটিকার সময় খুলশী থানাধীন আমবাগান নালাপাড়া ছিন্নমূল কলোনিতে, অর্থাৎ আসামিদ্বয়ের বর্তমান ঠিকানার বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করে (ক) ০৪টি রুপার কয়েন, ওজন-০৩ ভরি ১৫ আনা, (খ) ০২টি রুপার চেইন, ওজন-০১ ভরি ১০ আনা, (গ) ০২টি রুপার নূপুর, ওজন-০৩ ভরি ১০ আনা, (ঘ) ০২টি লেডিস পার্স ব্যাগ এবং (ঙ) নগদ-৮৫,০০০/- (পঁচাশি হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।