সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল্যাহ কামরুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় তার বক্তব্য নিম্নরুপ :
আসসালামু আলাইকুম, আমি সাইফুল্যাহ কামরুল, স্টাফ রিপোর্টার সময় টেলিভিশন। আমি ১৯৯১ সন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বদা সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। আমার জীবীকার তাগিদে যখন যেখানে কাজ করতে হয়েছে আমি করেছি কখনো ইনকিলাব, কখনো দিগন্ত টিভি, কখনো সিএসবি আর অদ্যাবধি আছি সময় টেলিভিশনের সাথে।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অফিসের নির্দেশে আমাকে বহু এমপি, মন্ত্রী, রথি- মহারথীদের দুর্নীতি, জায়গা-জমি সংক্রান্ত ভেজাল, খুন রাহাজানি হত্যা আত্যহত্যাসহ নানা রকমের নিউজ করতে হয়েছে। এ সমস্ত নিউজ করতে গেলে অবশ্যই কোন একটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ক্ষতিগ্রস্ত হলেই আমার পেছনে শত্রুতা করা শুরু করে।
নোয়াখালী শহরে আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি। আমার শৈশব কৈশর সবই চৌমুহনীতে আমার বাবা একজন শিক্ষক আমার দাদাও একজন শিক্ষক ছিলেন। আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং এখনো সাধারণ মধ্যবিত্তই আমার পরিবার।
চৌমুহনী বাজারে এবং মাইজদীতে যত মানুষ আছে স্বার্থে যাদের আঘাত লেগেছে তারা ছাড়া আমাকে বা আমাদের পরিবারকে খারাপ কেউ বলতে পারবে না। মাইজদীতে আমাদের চাকরী সুবাদে বসবাস। এখানে আমরা যে ফ্ল্যাটটিতে থাকি এটি জাতীয় গৃহায়নের। ১২৪৭ বর্গফুট ৪৩ লক্ষ টাকা এর মূলা। তাও পরিশোধ করছি ২০ বছরের কিস্তিতে।
আমার দুটি দামী গাড়ির কথা বলা হয়েছে, তাহলে নাম্বার প্লেট মুছে প্রচার করল কেন? আমার কিনা যাচাই করতো মানুষ। আমার গাড়ী থাকাতো দূরের কথা একটি মোটর সাইকেলও নাই। যে জমি দেখানো হয়েছে সেগুলো কার আমি জানি না। স্থানীয় তহসীল অফিসে খবর নিলে জানতে পারবেন। এগুলো আমাদের নয়। আমাদের নামে যা আছে তা সবই বৈধ আয়ে কষ্টার্জিত টাকার স্বল্প মূল্যে কেনা।
আমার ছেলে-মেয়েদের নামে কোন সম্পদ নাই এবং কেউ দেখাতে পারলে পুরষ্কৃত করবো। ঢাকা খুলনা বা বিদেশে কোথাও আমাদের কোন সম্পত্তি নাই, আপনারা যাচাই করতে পারেন। আমি চিটারি বাটপারি করলে রাজার হালে থাকতে পারতাম। আমার ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করাতে আমি গত বছর চৌমুহনীতে যে জমি বিক্রি করেছি তা চৌমুহনীর অনেকেই জানে। আমার বা আমার স্ত্রীর অবৈধ কোন ইনকাম নাই। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করে ২০০৬ সাল থেকে। সবাই যেসব সুযোগ সুবিধা পায় বিএনপি জোট সরকারের আমলে নিয়োগ হওয়ায় তাও তাকে দেয়া হয়নি।
সাবেক ভিসি ওহিদুজ্জামানের সাথে সর্ম্পক তো দূরের কথা ওদের নাম শুনলে মাটিচাপা দিতে চাইতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তারা তিনজন শাহানারা বেগম, মাসুদুর রহমান ও রিয়াস্তাসহ তিনজনকেই রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন নিয়েই সহকারী রেজিস্ট্রার পদে আপগ্রেডেশন দেয়া হয়। তাহলে অবৈধ সম্পর্ক কি তিন জনের সাথেই ছিল?
এরপর বাকী যারা ছিল তাদেরও পরবর্তি ভিসি দিদার স্যার আপগ্রেডেশন দেন, তারা যেমন দুটো আপগ্রেডেশন পেয়েছে তেমনি में তিনজনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুয়ায়ী ২টি আপগ্রেডেশনই পেয়েছে।তাছাড়া ২০১৪ সালে আমার মাইজদী টাউন হল মোড়ের অফিসে বোমা মেরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি যদি স্বৈরাচার সরকারের দালাল হতাম তাহলে বোমা মারার দরকার হতো না।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময় বিএনপি জামাতের ট্যাগ দিয়ে আমিসহ ৪/৫ জন সাংবাদিককে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষন পাশ স্থগিত করে দেয়া হয়। আমি ফ্যাসিস্ট হলে তা করতো না।
আমার স্ত্রীসহ আরো দুজনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে আপগ্রেডেশন সাক্ষাৎকার সুপারিশসহ রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য একজন আওয়ামী এমপি আমার স্ত্রীকে বিএনপি জামাতের ট্যাগ লাগিয়ে বিরোধিতা করে আপগ্রেডেশন আটকে দেন। অথচ সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে কখনোই সম্পৃক্ত ছিল না।
সে ২০০৬ সাল থেকে ২০১৭সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দফতরের সংস্থাপন ও প্রশাসন শাখার সকল কাজ সুনাম ও দক্ষতার সহিত করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগের ভিসি ওহিদুজ্জামান চাঁন তাকে বিএনপি জামাতের লোক বলে EEE বিভাগে বদলি করেন। এরপর থেকে সে ৮ বছর যাবৎ সেখানে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। যার স্বাক্ষী EEE বিভাগের সম্মানীত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। যদি সে নিয়োগ বাণিজ্যই করতো তাহলে তার ভাই বোনদের চাকরী দিতে পারলো না কেন?
তাছাড়া তার একমাত্র ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দুই দুইবার ল্যাব ইন্সট্রাক্টর পদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় ১ম হওয়ার পরও বিএনপি জামাতের ট্যাগ দিয়ে তাকে চাকুরী দেয়া হয়নি।
এ সমস্ত ডকুমেন্টস সবই আমাদের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে সংরক্ষিত আছে। তার ছোটবোন ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরও বিএনপি জামাতের ট্যাগের কারনে তাকেও চাকুরী দেয়নি, তৎকালীন আওয়ামী প্রশাসন।
এবার আসা যাক আমার নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১২ সালে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে টেকের বাজারে কিশোর মিলনকে ডাকাত সাজিয়ে হত্যার পর আমি সময় টেলিভিশনে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করলে নিউজটি সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। এরপরই আমাকে বিএনপি জামাত ট্যাগ দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর মোবাইল ও ফেইসবুক গোয়েন্দা নজরদারীতে আনে আওয়ামী প্রশাসন। গত ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লবের পর আড়িপাতা থেকে আমরা মুক্তি পাই।
তাছাড়া ১৯৯৫ সালে ২৪ ডিসেম্বর থেকে আমার বন্ধু ফরহাদসহ আমরা চৌমুহনী প্রি-ক্যাডেট একাডেমি নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করি যা দীর্ঘ ৩০ বছর সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছি। অথচ সেটিও আমার স্ত্রী চালায় বলে অপপ্রচার করা হয়েছে।
গত ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় একজন নৌকার প্রার্থীর ঋণ খেলাপির কারনে নোমিনেশন বাতিল করা হলে এ নিউজটি সর্বপ্রথম সময় টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করে।
পরবর্তিতে ঐ এমপি প্রার্থী অন্যায়ভাবে চৌমুহনী বড় মসজিদের একাউন্ট থেকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা নিয়ে ঋণ পরিশোধ করে। আমাকে সময় টেলিভিশন অফিস থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিউজ করতে বলা হয়। ঐ নিউজ প্রচার হলে সারা দেশে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরের
দিনই টেলিফোনে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পাশাপাশি আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এই সংক্রান্ত কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।
এছাড়াও একাধিকবার একাধিক নাম্বার থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। সুধারাম থানায় জিডি করা আছে। উক্ত নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে ঐ এমপি ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা জমা দিতে বাধ্য হওয়ায় আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা পরিকল্পিত সম্মানহানিকর তথ্য ফেইক ফেইজবুক আইডি ব্যবহার করে আমাকে স্বৈরাচারের দোসর ও আমার স্ত্রীকে ছাত্রলীগের সদস্য সাজিয়ে বিভ্রান্তিকর মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
যার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা যারা ঐ এমপির আত্মীয় পরিচয়দানকারী এবং দোসর হিসেবে পরিচিত। তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যার মত ক্রু লেস হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
আমি দেশবাসির কাছে জানিয়ে রাখতে চাই আমার ও আমার পরিবারের কোন সদস্যের অপ্রত্যাশিত ক্ষতি হলে ঐ এমপি ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং নোবিপ্রবিতে কর্মরত ঐ এমপির আত্মীয় পরিচয়দানকারী কর্মকর্তাসহ সন্দেহভাজন কর্মকরা এবং বেগমগঞ্জের ঐ এমপির
ক্যাডারেরা দায়ী থাকবে। ইতোমধ্যে আমি ঐ ফেইজবুক আইডির বিরুদ্ধে এবং যারা সত্যতা যাচাই না করে লাইক শেয়ার ও কমেন্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে মেসেজ চালাচালি করে অপপ্রচার ছড়িয়ে আমাদের সুনাম নষ্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। এদের মধ্যে আমার কয়েকজন সাংবাদিক সহকর্মি ও স্বপ্নচূড়ায় বসবাসকারী এবং কয়েকজন মোনাফেক বন্ধু ও রয়েছে।
আপনারা কোনভাবেই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।