শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
নতুন প্রযুক্তি, মানসম্মত উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ—এই তিনটি লক্ষ্য নিয়ে রোববার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো পোল্ট্রি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রদর্শনী মেলা। ভোর থেকেই উদ্যোক্তা, খামারি ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে ওঠে পুরো এলাকা।
নিরাপদ পোল্ট্রি ও পোল্ট্রিজাত পণ্যের বাজার উন্নয়ন শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপপ্রকল্পের আওতায় পিকেএসএফের সহযোগিতায় এবং এসডিএসের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই মেলায় ৩০টি স্টলে স্থান পায় দেশি মুরগি উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাত পণ্য সরবরাহকারী, ভ্যাকসিন হাব, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও ট্রাইকো কম্পোস্ট প্রস্তুতকারীরা। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে মেলার কার্যক্রম।
মেলার স্টল ঘুরে দেখেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এসডিএসের দায়িত্বশীলরা। তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও উদ্যোক্তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের মুখেও ছিল উচ্ছ্বাস।
দেশি মুরগি খামারি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। এগুলো খামারে প্রয়োগ করতে পারলে উৎপাদন আরও বাড়বে।
নারী উদ্যোক্তা শাহিনা বেগম জানান, এতদিন শুধু ডিম বিক্রি করতাম। মেলায় এসে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার সম্পর্কে ধারণা পেলাম। নিরাপদ খাবারের চাহিদা বাড়ায় নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করছি।
ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদক মো. আলী হোসেন বেপারী বলেন, খামারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও পণ্যের উপকারিতা তুলে ধরতে এই মেলা দারুণ সহায়তা করছে।
পোল্ট্রি সরঞ্জাম বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, অনেক উদ্যোক্তা আধুনিক ফিডার-ড্রিংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম প্রথমবার দেখে অবাক হয়েছেন।
উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী রুমানা আক্তারের ভাষায়, বোঝলাম ছোট পরিসরেও পোল্ট্রি দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। শিগগিরই ছোট খামার শুরু করব।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মত—নিয়মিত এমন আয়োজন হলে শরীয়তপুরে পোল্ট্রি শিল্প আরও বিস্তৃত হবে, বাড়বে নতুন উদ্যোক্তা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান।
মেলাটি প্রমাণ করেছে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজার সম্প্রসারণ—সবক্ষেত্রেই পোল্ট্রি খাতে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে যাচ্ছে শরীয়তপুরে।