একজন উদ্যোক্তা বলতে আমরা কি বুঝি? যে নিজে থেকেই কোনো ধারনা বা পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসা বা কোম্পানি, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সৃষ্টিশীল কোনো কর্ম করার চেষ্টা করেন তাকেই উদ্যোক্তা বলা হয়। আমাদের এই সমাজে একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠা অতটাও সহজ নয়, তার জন্য প্রয়োজন হয় প্রবল ইচ্ছা ও ধৈর্য। আর এমনই একজন উদ্যোক্তা হলেন দীপা বণিক। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনীতে। ফেনী সরকারি কলেজ থেকে তিনি গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। আগে থেকেই তার প্রবল ইচ্ছা ছিল কিছু করার কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। বর্তমানে সংসার ও উদ্যোগ দুটো নিয়েই এক সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আর তার এই উদ্যোগের নাম হলো ” দীপান্বিতা “ , যেখানে তিনি কুমিল্লার খাদি ও শাড়ি, থ্রি পিস, পাঞ্জাবি, ভেলভেট টাইডাই শাল বিক্রি করেন। দীপান্বিতার এই যাত্রা শুরু হয় তার এক বন্ধুর জন্য প্রোডাক্ট কিনতে গিয়ে। নিজেকে সাবলম্বী করার ইচ্ছে সব মেয়েরই থাকে কিন্তু সবার হয়তো সুযোগ হয়না। তারও ঠিক তাই কিন্তু মনের ইচ্ছাটাকে বাস্তবে রুপ দিতেই ২০১৯ সালে এই দ্বীপান্বিতার যাত্রা শুরু করেন। শখের বসে শুরু করলেও এখন এটাই তার পেশা। প্রথম দিকে শুধু পরিচিতদের মধ্যে সেল হতো এবং পণ্য সোর্সিং, প্যাকেজিং, ডেলিভারির কাজ ও একাই সামলাতেন। আর এখন দেশের প্রায় সব জেলায় এবং দেশের বাইরেও নিয়মিত তার পণ্য যাচ্ছে, আর একজন দক্ষ কারিগর ও ডেলিভারি ম্যান ও তিনি রেখেছেন তার কাজের জন্য ।
তার এই উদ্যোগে তার পরিবারের মতামত কি ছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” আমার হাজবেন্ড প্রবাসী তাই দেশে আমাকে সবকিছু একাই সামলাতে হয়। প্রথম দিকেই তার আগ্রহের কমতি ছিলোনা কিন্তু আমি একা পারবো কিনা এই নিয়ে সংশয় ছিলো। তবে এখন সে পুরোপুরি সাপোর্ট করে। “
তার জীবনের এই উদ্যোগের পিছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কে কাজ করে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” আমার এই কাজে অনুপ্রেরণা ছিলো আমার মা এবং উই গ্রুপ, তিনি অনেক পরিশ্রমী তিনি সবসময়ই চাইতেন আমি কিছু করি। মায়ের ইচ্ছা থেকেই মূলত উদ্যোক্তা হওয়া। আগে থেকে উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলাম তবে তা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছিল। এখন তা পূর্ণ করতে সাহায্য করেছে এ উই। উই এর হাত ধরেই আজ এই টুকু এসেছি। কারণ ওমেন্স অ্যান্ড ই- কমার্স ফোরাম( উই গ্রুপ) হচ্ছে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয় স্থল। নতুন নতুন প্রশিক্ষণ, রাজীব আহমেদ স্যার ও নিশা আপুর মূল্যবান, প্রতিভাবান দিকনির্দেশনায় উই আমাদের কাছে হয়ে ওঠেছে ভার্চুয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা আমার উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
তার এই উদ্যোগের জন্য তিনি কত টাকা ইনভেস্ট করেন এবং এখন পর্যন্ত তার কত টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” শুরুটা করেছিলেন নিজের জমানো মাত্র ১৪হাজার টাকার পণ্য কিনে, আর এখন পর্যন্ত মোট ১৫লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করা হয়েছে।”
একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি তার পণ্যের গুণগত মান কীভাবে বজায় রাখেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” আমি চেষ্টা করি আমার পণ্যের মান ঠিক রাখতে। এই জন্য আমি কাস্টমারদের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ডিজাইনে ভিন্নতার কারনে আমার পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। মোট কথা ইউনিক ডিজাইন এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সর্বোচ্চ মানের কারনে আমার পণ্য সবাই কিনবে। তাছাড়াও কোনো পণ্য সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করি। এবং ভবিষ্যতে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয় সেই চেষ্টা করি।”
“দীপান্বিতা“ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার উদ্যোগ নিয়ে আমার স্বপ্ন দেশ ছেড়ে একদিন দেশের বাইরেও সমানভাবে পরিচিত হবে আমার দীপান্বিতা।”
নতুনদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে বলায় তিনি বলেন, ” নতুন যারা উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হতে চান তাদের নিজেদের কাজের প্রতি অবশ্যই সৎ ও পরিশ্রমী হতে হবে। আপনার কাজের পিছনে লেগে থাকতে হবে তবেই সফল হওয়া সম্ভব।”
রাজিয়া রহমান
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
ইন্টার্ন
ওয়াইএসএসই