প্রতিনিধি, কুতুবদিয়া উপজেলা।
কুতুবদিয়া রুটের সী-ট্রাক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ সী-ট্রাক চলে যাওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কুতুবদিয়ার সী-ট্রাক স্থায়ীভাবে বন্ধ বা সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা গেছে, নৌ-পথের নিয়ম অনুযায়ী সী-ট্রাকগুলো বিভিন্ন রুটে রোটেশন বা সার্কেল আকারে পরিচালিত হয়। এর আগে মহেশখালীর একটি সী-ট্রাক কুতুবদিয়া রুটে চলাচল করেছিল। পরে সেটি অন্য রুটে চলে গেলে কুতুবদিয়া নতুন কোস্টাল সী-ট্রাক ‘এসটি নিঝুমদ্বীপ’ পায়।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি হাতিয়া রুটের জন্য একটি সী-ট্রাক বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার হাতিয়া রুটে সী-ট্রাক পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। টেন্ডার অনুযায়ী ‘এসটি নিঝুমদ্বীপ’ অথবা নির্মাণাধীন ‘এসটি সেন্টমার্টিন’—এই দুইটির যেকোনো একটি হাতিয়া রুটে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বর্তমানে ‘এসটি সেন্টমার্টিন’ এখনো নির্মাণাধীন থাকায় সেটি চালু হতে আরও কিছু সময় লাগবে। এ অবস্থায় দ্রুত হাতিয়া রুট উদ্বোধনের লক্ষ্যে কুতুবদিয়ার সচল সী-ট্রাক ‘এসটি নিঝুমদ্বীপ’ সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এতে কুতুবদিয়াবাসীর মাঝে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিকল্প সী-ট্রাক না আসা পর্যন্ত ‘এসটি নিঝুমদ্বীপ’ কুতুবদিয়া রুটেই চলাচল করবে। নতুন সী-ট্রাক যুক্ত হওয়ার পরই কেবল রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও অর্থনীতির জন্য সী-ট্রাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে বিদ্যমান সেবা বন্ধ করা হলে জনদুর্ভোগ বাড়বে।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও আতিকুল ইসলাম কাইফের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং নতুন সী-ট্রাক না আসা পর্যন্ত ‘এসটি নিঝুমদ্বীপ’ কুতুবদিয়া রুটে রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।