বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

গার্ডার চাপায় নিহতদের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
  • ১৫৫ সময় দেখুন
গার্ডার চাপায় নিহতদের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট – Corporate Sangbad


কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া খানের পক্ষে আইনজীবী এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম এ রিট দায়ের করেন।

এরআগে গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনায় আরেকটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে জনগণের চলাফেরায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গার্ডার চাপার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রিটে গত পাঁচ বছরে ফ্লাইওভার নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিআরটির উন্নয়ন প্রকল্পে জননিরাপত্তায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তলবেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাগুফতা আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। ওই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। হতাহতরা ঢাকায় একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরছিলেন।

নিহতরা হলেন- আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল (৫৫), ফাহিমা আক্তার (৩৮), ঝরণা আক্তার (২৭), জান্নাতুল (৬) ও জাকারিয়া (৪)। আহত নবদম্পতি হলেন হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১)। দুজনেই উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে একটি চাইনিজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসি কাজ করছে। এই কাজের অংশ হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী রাস্তায় একটি ক্রেনের সাহায্যে বক্সগার্ডার লোবেট ট্রাকে ওঠানো হচ্ছিল।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে সড়কে যান চলাচলের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই কাজ করা হচ্ছিল। তার স্বজনদের বহনকারী গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি বক্স গার্ডার গাড়িটির চালকের আসনসহ পেছনের আসনের অর্ধেকের বেশি অংশজুড়ে আছড়ে পড়ে। ফলে ঘটনাস্থলেই গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা ৭ জনের মধ্যে ৫ জন নিহত হন। আসামিদের অবহেলার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ক্রেনের চালক, সিজিসিসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

হতাহতদের পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৌভাতের দাওয়াত খেয়ে স্বজনরা নবদম্পতিকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে উত্তরার জসীম উদ্‌দীন মোড় সংলগ্ন সড়কে বিআরটির প্রকল্পের গার্ডার আছড়ে পড়ে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের ওপর। প্রাইভেটকারে সাত আরোহীর মধ্যে শুধু বেঁচে যান নবদম্পতি হৃদয় (২৫) ও রিয়া মনি। শনিবার (১৩ আগস্ট) তাদের বিয়ে হয়।

প্রাইভেটকারে আরোহীদের মধ্যে ছিলেন- হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হৃদয় ও রিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনরা জানান, গত শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা ১৫ আগস্ট ছেলের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুর বাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

হৃদয়ের চাচাতো ভাই রাকিব জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়ি থেকে মরদেহগুলো বের করে উদ্ধারকারীরা।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর