নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সাবেক এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, উন্নয়নের অর্থ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন কাজে বাধা প্রদান এবং পৌরসভার এডিপি প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ভয় -ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ বিষয় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এমপি’র ঘনিষ্ঠতার দাপট দেখিয়ে তিনি এসব অপকর্ম করছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবিরহাট পৌরসভার এডিপির উন্নয়ন কাজে হৃদয়ের বিরুদ্ধে পুরোপুরি কাজ না করে এই প্রকল্প থেকে বিল উত্তোলনের উঠিয়ে নেয়। জানা যায়, এডিপি প্রকল্পের আওতায় ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি পৃথক কাজের দায়িত্ব পায় ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’, যার নেপথ্যে ছিলেন এই জহিরুল ইসলাম হৃদয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বসু মিয়ার বাড়ীর ১৪৫ মিটার মাটি রাস্তায় সংস্করণ এর জন্য বরাদ্দ ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা কাজের কোন রকম মাটি পেলে হৃদয়। এ কাজে নকশা অনুযায়ী সম্পন্ন করা বা হওয়ায় স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে প্রতিবাদ করলে হৃদয় তাদের সাথে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি তদারককারী প্রকৌশলী ভুয়া ভাউচারে সই করতে রাজি না হওয়ায় তার সাথেও বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন এই নেতা। পরে ৪০ হাজার টাকা কম নিয়ে বাকি টাকা উত্তোলন করাে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ দিকে একই ওয়ার্ডের সমশের আলী ব্যাপারী বাড়ির ১৪৫ মিটার আরসিসি কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা । কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে সেখানে কোন কাজের দেখা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের আরেকটি বাড়ির ফজু হাজি বাড়ির কাশেম নামে পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের ঘরের সামনে ৩০-৪০ ফুট আরসিসির কোন রকম দায় সারা কাজ করে বিল উত্তোলন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ঐ বাড়ীর নুরুল আমিন জানান, হৃদয় কিছুদিন আগে এখানে কাজ করেছে তবে কাজটি কোনরকম করে সে চলে যায়। এখানে ৩০-৪০ ফুট কাজ করা হয়েছে। আমরা শুনেছি কাজটি আরো বেশি করার কথা ছিল ।
একই চিত্র দেখা যায়, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব ফতেহপুর মুকুম আলী মুন্সী বাড়ি সড়কে।সেখানে
আরসিসি ৬০ মিটার কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সে কাজটিও পরিপূর্ণ ভাবে না করে বিল উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “বিসমিল্লাহ টেডার্স “এর সত্ত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম হৃদয়।
এ বিষয়ে কবিরহাট পৌরসভা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, এডিবির পৃথক তিনটি প্রকল্পের জন্য ২৪-২৪ অর্থবছরে ১২ লক্ষ ৪৫ হাজার ব্যায়ে তিনটি সড়কের কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “বিসমিল্লাহ টেডার্স “এর সত্ত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম হৃদয়কে।
এ কাজে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোটাল বিল ২৬ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখে ৬ লাখ ৩২ হাজার তিনশ টাকা উত্তোলন করে। এর পর এপ্রিল মাসের চার তারিখে আরো ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৪ টাকা উত্তোলন করে।
কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয় জানতে চাইলে কবিরহাট পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল আনসার বলেন, কাজ ঠিকমতো করলেও একটি মাত্র কাজে অনিয়ম পাওয়ায় যদিও সেখানে কিছু কাজ করেছে তারপরও আমরা তাকে ৪০ হাজার টাকা কম দিয়েছি।
এ দিকে স্থানীয়দের দাবি, জহিরুল ইসলাম হৃদয় বর্তমান সংসদ সদস্যের (এমপি) ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বল প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করাই তার কাজ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন আবারও এমপির নাম ভাঙিয়ে চলছে।
এসব বিষয়ে জানতে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’এর স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম হৃদয়েয় সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছি। বরং তারা আমার কিছু বিল এখনো দেয় নাই। আমি চেষ্টা করছি ঠিক মত করতে এখানে অনিয়ম হয় নাই। একটি সড়ক কম করা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তারা যায়গা দিতে পারে নাই তাই আমার কি দোষ।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই কথিত নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গণ সাক্ষরের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তারা বলেন, হৃদয় তাদের এলাকায় মাটির সংস্করণের কাজ করতে গিয়ে পরিপূর্ণভাবে কাজ না করে স্থানীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং তাদেরকে হুমকি দিয়ে ভয় – ভীতি দেখান। তারা এই ঘটনায় সুস্থতা তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন। উন্নয়ন কাজটি পরিপূর্ণভাবে শেষ করার দাবি জানান।