ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন র্যাব সদস্যরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজার এলাকার এক মেসে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি বলেন, ‘র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে শুরুতে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে আরও র্যাব সদস্য আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’
সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘সকালে একজন শিক্ষার্থী ফোন করে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান। এরই মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন।’
ওসি বলেন, ‘পরে পুলিশ জানতে পারে, মামলাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে করা হয়েছে। এর পর ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।’