মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ভেনেজুয়াভিত্তিক অপরাধী চক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র প্রধান নিনিও গুয়েরেরো নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড হামলা চালিয়ে হেক্টর রুস্তেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস, যিনি ‘নিনিও গুয়েরেরো’ নামে পরিচিত, তাকে হত্যা করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিনিও গুয়েরেরো ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। লাতিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত এই গোষ্ঠীকে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অনিয়মিত যুদ্ধ পরিচালনায় জড়িত ছিল গোষ্ঠীটি।
ট্রাম্প তার পোস্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে একটি সবুজ রঙের ভবন ও পাশের একটি স্থাপনায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষও তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে একে যৌথ অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক অভিযানে আটক করে নিউইয়র্কে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, মাদুরো ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। ওই মামলায় সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নিনিও গুয়েরেরোর নামও উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারভিত্তিক একটি গ্যাংকে নিনিও গুয়েরেরো আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কে পরিণত করেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও চিলিতে বিস্তার লাভ করে এবং চাঁদাবাজির পাশাপাশি মানবপাচার, ভাড়াটে হত্যা ও অপহরণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়ায় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তার লাভ করে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত আটটি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে।