শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা: রাশেদ খাঁন শরীয়তপুরে ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলন, সদর ও পৌর শাখায় নতুন নেতৃত্ব দেশের সকল হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে নয়দিন পর ২ জনকে জীবিত উদ্ধার Himanshi Khurana Takes A Dig At Asim Riaz Amid Conversion Claims: ‘I Talked About What You Did’ | Television News Nick Kyrgios suspended for one month after cocaine positive at Mallorca event | Tennis News লক্ষ্মীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু খাদ্য ‘শন পাপড়ি’ তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা কর্ণফুলীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাদ্যপণ্য উপাদান, মোবাইল কোর্টে বেকারী সিলগালা নোয়াখালীতে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে শিয়ালের কামড়ে নারী- শিশুসহ আহত ২০

​৩০ বছর ভিক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখা সন্তানও চলে গেল ঈদে, একাকী আছিয়ার নতুন সম্বল ‘আছিয়া স্টোর”

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৩০১ সময় দেখুন
​৩০ বছর ভিক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখা সন্তানও চলে গেল ঈদে, একাকী আছিয়ার নতুন সম্বল ‘আছিয়া স্টোর”

মাহবুবুর রহমান : আমার বিয়ে হয়েছিল চাঁদপুরে। স্বামী পুলিশে চাকুরী করতেন। বিয়ের পর আমার একটি ছেলে সন্তান পৃথিবীতে আসে। সে পৃথিবীতে আসার কিছু দিন পর আমার স্বামী আামদের ছেড়ে চলে যান বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায়। এরপর থেকে আমার এ সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে কখনো লাকড়ি কুড়িয়ে, কখনো পলিথিন টোকাই করে, আবার কখনো হাটে-বাজারে ভিক্ষা করে সন্তানের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। গত ঈদুল আজহার দিন সেই ছেলেও আমাকে ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে যায়। আমি এখন অনেক একা হয়ে গেছি। কান্না জড়িত কণ্ঠে এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা আছিয়া খাতুন (৬৫)।

আছিয়া খাতুনের কাছে জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন তার কাছে একেকটি নির্মম লড়াইয়ের গল্প। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ওয়াপদা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (পূর্বতন ২ নম্বর ওয়ার্ড) এই বাসিন্দা। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এক বুক কষ্ট আর অভাবকে সঙ্গী করে বেঁচে আছেন।
একসময় চাঁদপুরে ছিল আছিয়া খাতুনের শ্বশুরবাড়ি। তার স্বামী আক্তার হোসেন পুলিশে চাকরি করতেন। কিন্তু এক বুক স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিবন্ধী সন্তানটিকে আছিয়ার কোলে রেখে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান।

এরপর থেকে একমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে শুরু হয় আছিয়ার এক অসম যুদ্ধ। কখনো লাকড়ি কুড়িয়ে, কখনো পলিথিন টোকাই করে, আবার কখনো হাটে-বাজারে ভিক্ষা করে সন্তানের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানের প্রতি তার মমতায় কোনো কমতি ছিল না। এবার ঈদুল আযহার দিনের সে সন্তানটিও তাকে ছেড়ে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন নামে এক যুবক তার অসহায়ত্ব দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। সে আবেদন দেখে সন্তান হারিয়ে চরম অসহায় ও দিশেহারা হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। সাথে সাথে তাকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। গত ১৬ তারিখে সমাজসেবার সহযোগিতায় আছিয়া খাতুনের হাতে তুলে দেন ” আছিয়া স্টোরের” চাবি।

দীর্ঘ ৩০ বছর যে সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন, গত ঈদুল আজহার দিন সেই ছেলেও তাকে ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে যান। ছেলে সন্তান হারিয়ে আছিয়া খাতুন বলেন, “সন্তানডারে লইয়া কত কষ্ট করছি, ভিক্ষা করছি, তাও তো চোখের সামনে আছিল। এহন আমি একদম একা হইয়া গেলাম। কথা গুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয় মনির হোসেন জানান, আমরা ছোটবেলা থেকে উনাকে এভাবে দেখেছি। উনার একটা সন্তান ছিল বিশেষ প্রতিবন্ধী ঈদের দিন ওই সন্তানটি মারা যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইউএনও মহোদয় বারবার একটা আবেদন করলে তিনি তাৎক্ষণিক আবেদন গ্রহণ করে ১৫ দিনের মধ্যে একটি দোকান তৈরি করে দেন। তিনি বর্তমানে বিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সন্তানের শোক কাটিয়ে কিছুটা হলেও শেষ দিন গুলো সুন্দর ভাবে কাটাতে পারবেন।

নতুন দোকান উপহার দিয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, মানবিকতার যায়গা থেকে আছিয়া খাতুনকে ভিক্ষাবৃত্তির জীবন থেকে ফিরিয়ে এনে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারে এ জন্য তাৎক্ষণিক একটি উদ্যোগ নি। আমি যখন এ আবেদনটি পাই তখন তার কথা গুলো শুনে আমি নিজেই আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়ি। পরে সেই আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে তার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি তারই অংশ হিসেবে আমরা তার হাতে তুলে দিয়েছি ” আছিয়া স্টোর” নামে একটি দোকান । যে দোকান দিয়ে তিনি আত্মনির্ভরশীল হয়ে যেন আমাদের সমাজে বাঁচতে পারেন।

স্থানীয়রা জানান, আছিয়া বেগমের এই জীবনসংগ্রাম শুধু একজন নারীর একা লড়াইয়ের গল্প নয়; এটি সমাজের জন্য এক বড় বার্তা। ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগের ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আছিয়া বেগম হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। হারানো সন্তান কিংবা অতীত তো আর ফিরে আসবে না, তবে মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়ালে যে এখনো বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা জাগে, আছিয়া খাতুন তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর