কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বাংলাবাজার ঘাটে সাম্পান ভাড়া ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেন দয়ালের প্রভাব খাটিয়ে পূর্ব সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোতে সর্বসম্মতিক্রমে তিন মাস সময় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই বাংলাবাজার ঘাটে ভাড়া ২০ টাকা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লোকমান হোসেন দয়াল বাংলাবাজার ঘাটকে কেন্দ্র করে চোরাই তেল, কয়লা ও স্ক্র্যাপ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান ভাড়া বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাদের মতে, এক লিটার জ্বালানি তেল দিয়ে একটি সাম্পান চারবার যাত্রী পারাপার করতে পারে। প্রতিটি সাম্পানে ১০ জন যাত্রী পরিবহন করা হলে ১৫ টাকা ভাড়ায় এক ট্রিপে ১৫০ টাকা আয় হয়। সিটি কর্পোরেশনের খাস কালেকশন বাবদ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পরও মাঝিদের যথেষ্ট আয় থাকে। এরপরও অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী এই ঘাট ব্যবহার করেন। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাবাজার, সদরঘাট ও ব্রিজঘাটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, প্রয়োজন হলে তিনটি ঘাটেই একযোগে ভাড়া সমন্বয় করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই একটি পক্ষের উদ্যোগে শুধুমাত্র বাংলাবাজার ঘাটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
তারা বলেন, “এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করি। কিন্তু ঘাটের সভাপতি লোকমান হোসেন দয়াল বৈঠকে উপস্থিত হননি। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানান। পরে তিনি বলেন, সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা এবং খাস কালেকশনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝিরা আগের ভাড়ায় চলতে পারছিল না। তাই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।