দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কামাল হোসেন (৪০) নামে এক দরবার শরীফের খাদেমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় আহত খাদেম নিজেই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত খাদেম উপজেলার মথুরাপুর দরগাতলা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে।
গত শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর বাজার সংলগ্ন হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফে প্রতিবছর বৈশাখের ২৯, ৩০ এবং ১লা জ্যৈষ্ঠ ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন ওরশ মোবারককে সামনে রেখে চলছিল বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি।
জানা গেছে, ওরশকে কেন্দ্র করে দরবার এলাকায় একটি মেলা বসে। আর সেই মেলার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মৃত রহিম বক্স বিশ্বাসের ছেলে আমিরুল বিশ্বাস (৫৫), হাকিম বিশ্বাসের ছেলে উকিল বিশ্বাস (৪৫), আমিরুল বিশ্বাসের ছেলে সালাম বিশ্বাস এবং উকিল বিশ্বাসের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন (৩৫) দেশীয় লাঠি, বাটাম ও পাইপ দিয়ে খাদেম কামাল হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় কামাল হোসেনকে উদ্ধার করতে গেলে তার বোন রিতা খাতুন (৩৫) কেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত দু’জনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
খাদেম কামাল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার দাবি, আসন্ন ওরশ শরীফ ও মেলার কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণেই তার ওপর হামলা হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার বোন রিতা খাতুন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,
খাদেমের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।