মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নজরুল ইসলাম সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার আবদুল জলিল ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময় গণআন্দোলন ও জনমতের ভিত্তিতে সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে।
তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানকে যুগোপযোগী করা না গেলে রাজনৈতিক সংকট কাটবে না।” একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে তা সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। জনগণ এখন সচেতন, তারা ষড়যন্ত্র বুঝতে পারে।”
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নজরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে অতীতের মতোই গণআন্দোলন গড়ে উঠবে।” তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
সম্মেলনে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। নারী-পুরুষ সবাইকে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জনই তাদের লক্ষ্য। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মনির আবছার চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ও মাওলানা ইসমাইল হক্কানীসহ আরও অনেকে।
এছাড়া মাহবুব আলী, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হারুন, আব্দুর রহমান, ইলিয়াস মেম্বার, ডা. মুবিনুল হক, ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শরীফ সুমন, মাস্টার মনজুর আলম, জিয়াউর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদ ইমরোজ, মুছা মেম্বার, মাওলানা মুছা, নুরুল আক্কাছ ও মো. আলমগীরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা দলীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।