আহমদ বিলাল খান:
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি জাতির গৌরব, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এ উপলক্ষে সংগঠনটি এক বিবৃতিতে তাঁর অসামান্য বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এ শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কেবল একজন যোদ্ধা নন, তিনি ছিলেন জাতির স্বাধীনতার রক্ষাকবচ এবং ত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর আত্মদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অম্লান অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পিসিসিপির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও বক্তব্য
পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কেবল একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশপ্রেমের এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ী জনপদে তাঁর রক্ত মিশে আছে। তাঁর বীরত্ব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে পাহাড়ের সার্বভৌমত্ব আর দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয়।
পিসিসিপির মূল আহ্বানসমূহ
সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
সংগ্রামের প্রেরণা: মুন্সী আব্দুর রউফের বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।
স্মৃতি সংরক্ষণ: রাঙামাটির নানিয়ারচরে অবস্থিত তাঁর সমাধিস্থল এবং বুড়িঘাটের ঐতিহাসিক রণাঙ্গন যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
জাতীয় ঐক্য ও শান্তি: তাঁর আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে।
শ্রদ্ধা ও স্মরণ
পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি আরও উল্লেখ করে, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট সময় বা অঞ্চলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমগ্র জাতির গর্ব, চেতনা ও অনুপ্রেরণার অক্ষয় উৎস।
আজকের এই দিনে জাতি পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে তাঁর সেই মহান আত্মত্যাগকে, যা বাংলাদেশের মানচিত্রকে করেছে কলঙ্কমুক্ত ও স্বাধীন। বিনম্র শ্রদ্ধা, হে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান।