শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

ব্রাকসু নির্বাচন বিলম্বে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮২ সময় দেখুন
ব্রাকসু নির্বাচন বিলম্বে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচি


রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের বারবার স্থগিত ও দীর্ঘসূত্রিতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তুলেছেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ‘প্রতারক, মুনাফিক, মিথ্যাবাদী এবং মেরুদণ্ডহীন’ বলে সমালোচনা করেছেন, দাবি করেছেন যে বারবার তারিখ পরিবর্তন শুধু সময়ক্ষেপণ মাত্র।

রুহান হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর হয়ে গেল, কিন্তু প্রথমবারের নির্বাচনও হচ্ছে না। এটি প্রশাসনের অদক্ষতা এবং ইচ্ছাকৃত অবহেলার ফল।” অবস্থানকারীরা দাবি করেছেন যে, দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনা করছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।”

প্রক্টর বলেন, “আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য অনুরোধ করছি, আমরা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করব।”

এই সংলাপের মধ্যে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত আশ্বাস চেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি প্রথম নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বারবার স্থগিতের কারণে শিক্ষার্থীদের হতাশা বেড়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। তার আগে ১২ জানুয়ারি পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রধান কমিশনারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার ত্রুটি এবং অন্যান্য জটিলতায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে অবস্থান করে দাবি তোলেন, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাসে এমন অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।”

অন্যান্য শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক, কিন্তু বারবার বিলম্ব তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। গত বছর জুলাই বিপ্লবের পর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বেরোবিতে এখনো অনিশ্চয়তা।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom