শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেকে পর্যটকদের জীবন রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসায় পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদ সিএমপি’র চকবাজার থানার অভিযানে আলোচিত ডিডিএন অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত অন্যতম হামলাকারী মোঃ রাজ্জাক ওরফে চিকনা রাজু গ্রেফতার হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর সিএমপি বাকলিয়া থানার পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার সহ এক জন চোর গ্রেফতার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় ৭টি জাহাজে আগুন সহপাঠীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে রাবির সেই চেসি ত্রিপুরা Raghav Chadha Calls Himself ‘Luckiest Husband In The World’ As He Celebrates Parineeti Chopra’s Birthday | Photos | Bollywood News Asian Para Games 2026: Harvinder Singh, Vijay Sundi strike gold in men’s recurve doubles | Asian Para Games 2026 News সাজেক পরিস্থিতিতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে জামায়াত আমিরের আহ্বান ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াত আমীর আ.স.ম. শাহরিয়ার চৌধুরীর

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭০০ সময় দেখুন
কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াত আমীর আ.স.ম. শাহরিয়ার চৌধুরীর

জাহেদুল ইসলাম, কুতুবদিয়া উপজেলা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে কুতুবদিয়া উপজেলা আমীর আ.স.ম. শাহরিয়ার চৌধুরীর প্রস্তাবনা। তিনি লিখেছেন—

“গণতন্ত্রের প্রাণ হলো নির্বাচন, আর সুষ্ঠু নির্বাচনই একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে—এটাই কাম্য। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কিছু চিরায়ত সমস্যা রয়ে গেছে। সেই সমস্যাগুলো দূর করে একটি সম্পূর্ণ নতুন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্যই এই প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলো। এ পদ্ধতি নির্বাচনকে শুধু ঝামেলামুক্তই করবে না, বরং এটিকে সত্যিকার অর্থেই একটি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করবে।

১৯৭০ সালের নির্বাচন সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল, অথচ সেই নির্বাচনের বিজয়ীরাই স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভোট কারচুপির সূচনা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, ভোট যেন জনগণের বিরুদ্ধে এক অলিখিত যুদ্ধ, পর্দার অন্তরালে ষড়যন্ত্র এবং স্বৈরাচার বেড়ে ওঠার এক অনবদ্য সিঁড়ি। এই দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জরুরি সংস্কার অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের আয়োজন করতে চায়, তবে এ প্রস্তাবনাটি বিবেচনায় নিতে পারে।

প্রস্তাবিত এই নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থায় কাগজের প্রচলিত ব্যালট পেপারের আলাদা কোনো মুন্ডা থাকবে না। প্রিন্টেড ব্যালট আগেই একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বক্সে সংরক্ষিত থাকবে। ভোটার লাইনে এসে পরিচয় নিশ্চিত করার পর আঙুলের ছাপ দেবেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিললে ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি প্রিন্টেড ব্যালট পেপার বের করবে, যেখানে থাকবে গোপন জলছাপ বা সিরিয়াল নম্বর। ব্যালটের পেছনে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করে ভোটারের হাতে দেবেন।

ভোটার ব্যালট হাতে নিয়ে গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রতীকে সিল মারবেন এবং সেটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ডুকিয়ে দিবেন। ব্যালট প্রদানের এ ডিভাইস এমনভাবে সুরক্ষিত থাকবে যে, কেবল প্রকৃত ভোটারই আঙুলের ছাপ দিয়ে ব্যালট নিতে পারবেন। কারা ভোট দিয়েছেন তার তথ্যও ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে, প্রয়োজনে তার কপিও নেওয়া যাবে। এভাবে প্রতিটি বুথ পরিচালনার জন্য একজন-দুজন কর্মকর্তা যথেষ্ট হবে। ফলে ভোটারের আঙুলে কালি লাগানো কিংবা প্রার্থীর এজেন্টদের অতিরিক্ত ভূমিকা রাখার প্রয়োজন হবে না।

ভোট গণনা প্রক্রিয়াটিও হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ। ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি ব্যালট বাক্স প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে খোলা হবে। ব্যালট পেপারগুলো একটি বিশেষ গণনাকারী ডিভাইসের মাধ্যমে স্ক্যান করা হবে। ডিভাইসটি গোপন জলছাপ বা নম্বর যাচাই করে প্রকৃত ব্যালট ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করবে না। গণনার ফলাফল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে এবং প্রিন্টেড কপিও বের হবে। প্রিসাইডিং অফিসার সেই কপিতে স্বাক্ষর করে প্রতিটি প্রার্থীর এজেন্টকে দেবেন।

কোনো পক্ষ ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালে সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় গণনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সব ফলাফল ও প্রয়োজনীয় নথি রিটার্নিং অফিসার, ইউএনও অফিস এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে ডাকযোগে হার্ড কপি এবং সফট কপি প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হবে।

রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে, গত ১৫ বছরে যারা এই দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বাদ দিতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা ভোট জালিয়াতির চেষ্টা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও কঠোর থেকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতায়ন করতে হবে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্র সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কন্ট্রোল রুম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের ব্যালট প্রদানের ডিভাইস বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে।

এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে না। তারা রিজার্ভ ফোর্স হিসেবেই যথেষ্ট হবে।

আমার বিশ্বাস, এই ডিভাইসগুলো আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দক্ষ শিক্ষার্থীরাই সহজেই ডিজাইন করতে সক্ষম।”

আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী
আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
কুতুবদিয়া উপজেলা,কক্সবাজার।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর