শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেকে পর্যটকদের জীবন রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসায় পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদ সিএমপি’র চকবাজার থানার অভিযানে আলোচিত ডিডিএন অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত অন্যতম হামলাকারী মোঃ রাজ্জাক ওরফে চিকনা রাজু গ্রেফতার হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর সিএমপি বাকলিয়া থানার পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার সহ এক জন চোর গ্রেফতার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় ৭টি জাহাজে আগুন সহপাঠীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে রাবির সেই চেসি ত্রিপুরা Raghav Chadha Calls Himself ‘Luckiest Husband In The World’ As He Celebrates Parineeti Chopra’s Birthday | Photos | Bollywood News Asian Para Games 2026: Harvinder Singh, Vijay Sundi strike gold in men’s recurve doubles | Asian Para Games 2026 News সাজেক পরিস্থিতিতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে জামায়াত আমিরের আহ্বান ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বে তারেক রহমান, রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০৯ সময় দেখুন
পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বে তারেক রহমান, রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা


ঢাকা: ১৯৮৪ থেকে ২০২৫। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলীয় প্রধানের চেয়ারে আসীন ছিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রয়াণের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ বৃত্ত পূর্ণ হলো। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর দলের গুরুদায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পিত হলো খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ওপর। এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরা তারেক রহমানের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে অভিষেক বিএনপির রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংগ্রাম ও বিবর্তনের ইতিহাস

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নয়, বরং এটি দীর্ঘ বিবর্তনের ফসল। ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তারেক রহমানের রাজনৈতিক দীক্ষা যেন শৈশবেই হয়েছিল বন্দিত্বের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বকনিষ্ঠ যুদ্ধবন্দিদের একজন ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সরব উপস্থিতি ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে দেশজুড়ে প্রচারে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি জনগণের পালস বুঝতে শেখেন।

তবে তার মূল সাংগঠনিক ক্যারিশমা দেখা যায় ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রথা চালুর মধ্য দিয়ে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেই ‘বগুড়া মডেল’ পরবর্তী সময়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে প্রাণসঞ্চার করেছিল। ২০০১ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দলের চালিকাশক্তিতে পরিণত হন।

নির্যাতন-নির্বাসন-প্রত্যাবর্তন

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী প্রেক্ষাপট তারেক রহমানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দীর্ঘ ১৮ মাস কারাবরণ এবং সেই সময়কার কথিত শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ২০০৮ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। সেখান থেকেই গত দেড় দশক ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন দলটিকে সুসংগঠিত রাখার কৃতিত্ব তার অনুসারীরা তাকেই দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্ব দলটিকে বড় ধরনের ভাঙন থেকে রক্ষা করেছে।

যা বলছেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও নেতারা

বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রমিত আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হওয়াটা সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। তবে তার দেশে ফেরার পর এই দায়িত্ব গ্রহণ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, তা অভূতপূর্ব। এটি একটি প্রথাগত নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এবং তৃণমূলমুখী রাজনীতির এক নতুন সমন্বয়।’

তিনি বলেন,‘তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের দীর্ঘদিনের ঘরানা ও আধুনিক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। এতদিন তিনি নেপথ্যে থেকে দল চালিয়েছেন, এখন তাকে সরাসরি মাঠে থেকে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’

অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের কাছে শুধু একজন নেতাই নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের প্রতীক। গত ১৭ বছর তাকে প্রবাসে রেখে মিথ্যা মামলা ও সাজা দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। আজ তিনি বৈধভাবেই দলের শীর্ষ পদে আসীন হলেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি এখন আরও বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।’

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলাসহ একাধিক মামলায় আওয়ামী লীগ আমলে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তারেক রহমান। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। এখন তার সামনে বড় কাজ হলো— বেগম জিয়ার শূন্যতা পূরণ করে দলকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা।

স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে তারেক রহমান যখন নতুন বাংলাদেশে বিএনপির ঝাণ্ডা ধরছেন, তখন জনমনে প্রশ্ন—কেমন হবে তার আগামীর রাজনীতি?

তারেক রহমানের নেতৃত্ব কেবল একটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও এক বড় প্রভাবক। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নাড়ির টান— এই দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি বিএনপিকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর