শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
18 balls, zero boundaries: Three overs that cost Gujarat Titans the match vs RCB | Cricket News কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচন: ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তারুণ্যের পছন্দ মো: মিজানুর রহমান Khalnayak Returns Announced: Sanjay Dutt Back As Ballu After 33 Years, First Look OUT | Bollywood News শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের জাতীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানকে যুগোপযোগী করা না গেলে রাজনৈতিক সংকট কাটবে না : চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মো. নজরুল ইসলাম কক্সবাজারের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ ১ জন কুখ্যাত মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার মেলান্দহে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে- ঝিনাইগাতীতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে জমি বেদখলের অভিযোগ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে

নিজস্ব ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া আনছে ইরান

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬৭ সময় দেখুন
নিজস্ব ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া আনছে ইরান


ইরানের সরকার দেশটিকে স্থায়ীভাবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছেন দেশটির কিছু ডিজিটাল অধিকারকর্মী। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে শুধু সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই সীমিতভাবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার আর সাধারণ নাগরিক অধিকার নয়, বরং সরকারের দেওয়া ‘বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে গণ্য হবে।

ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাঁদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে বা যাঁরা সরকারি যাচাই পাস করবেন, শুধু তাঁরাই সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য থাকবে জাতীয় ইন্টারনেট। এই প্রযুক্তি পুরোপুরি দেশীয় এবং বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন।

এই জাতীয় ইন্টারনেট মূলত সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি সমান্তরাল নেটওয়ার্ক। এখানে শুধু সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ এবং দেশীয় স্ট্রিমিং সেবা (যেমন ইরানি নেটফ্লিক্স) থাকবে।

অভিযোগ উঠেছে, এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা তৈরিতে চীন ও হুয়াওয়ের উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইন্টারনেটের ট্রাফিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে যে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে, তা ইতিমধ্যে মিসরের ২০১১ সালের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার শাটডাউনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নেটব্লকসের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশটিতে কোনো কার্যকর ইন্টারনেট সংযোগ নেই।

সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০ মার্চ ইরানি নববর্ষ (নওরোজ) পর্যন্ত এই ব্ল্যাকআউট বহাল থাকতে পারে।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ নিয়ে কাজ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা (সাবেক) দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ইরান স্থায়ীভাবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে, এটা ভীতিকর হলেও অসম্ভব নয়।’

আসলেই তাই। কারণ ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বিগত ১৬ বছরের পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ। ২০০৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনের পর বিক্ষোভ চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে সরকার বুঝেছিল, সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এরপর ২০১২ সালে গঠিত হয় ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেস এবং শুরু হয় দেশীয় ইন্টারনেট তৈরির কাজ।

পরবর্তী বছরগুলোতে সরকার আরও কৌশলী হয়। ২০১২ সালের বিক্ষোভে ফেসবুক, টুইটার, গুগল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালু রাখা হয়। গবেষকদের মতে, ইরানে চালু হওয়া ‘হোয়াইটলিস্টিং ব্যবস্থা’ সম্ভবত চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মিডলবক্স, যা ইন্টারনেট ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্লক করতে পারে। এর মাধ্যমে পুরো দেশের ইন্টারনেট নজরদারি করা, ব্যবহারকারীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানো এবং ভিপিএনসহ নির্দিষ্ট টুল বন্ধ করা সম্ভব।

২০১৫ সালে কিছু গবেষক বিটকয়েন ব্যবহার করে ইরানি সার্ভার কিনে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন, সেখানে এমন একটি অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট তৈরি করেছে, যা করপোরেট অফিস নেটওয়ার্কের মতোই বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ যখন ‘ইন্টারনেট কিল সুইচ’ বা শাটডাউন বোতাম চাপার শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইলন মাস্কের স্টারলিংক হয়ে উঠেছে বিক্ষোভকারীদের শেষ ভরসা। তবে ২০২৫ সালে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, ইরানে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা ‘ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি’র সমান অপরাধ এবং শাস্তি হিসেবে এতে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। এ ছাড়া তেহরানের আকাশসীমায় রুশ ও চীনা প্রযুক্তির জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংক সিগন্যালও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom