শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য ১২ নারী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৪২ সময় দেখুন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য ১২ নারী


ঢাকা: ১২ মার্চ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এর আগেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের জন্য ১২ নারী নেত্রীর একটি তালিকা দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব এলাকায় দলীয় প্রার্থী দিয়েও আসন পায়নি সেসব এলাকা থেকে নারী প্রতিনিধিদের সংসদে আনার চেষ্টা করছে জামায়াত। এ ছাড়া, উচ্চকক্ষ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। বর্তমান সংসদীয় আইন অনুযায়ী প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি নারী আসন বরাদ্দ করা হয়। সেই হিসাবে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে জামায়াত পাবে ১১টি আসন। তবে ভগ্নাংশের হিসাব ও লটারির কারণে আসন সংখ্যায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে। সেকারণে সম্ভব্য প্রার্থী তালিকায় ১২ জনকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, তাদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী, পেশাজীবী ও গণমাধ্যমে পরিচিত কয়েকজন নারী রয়েছেন। দলের নেতারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নে কোনো স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। তবে যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুন্নিসা সিদ্দিকা রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিডিয়া ফেইস করতে পারেন– এমন বোনদের নাম দেওয়া হয়েছে।’ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে জামায়াতের নারী নেত্রীদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নীতিগত অবস্থান পাল্টে নারী শাখা অভ্যুত্থানের পরে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করেছে। গণমাধ্যমেও হাজির হয়েছেন কেউ কেউ। এর মধ্যে ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও জামায়াতের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ড. ফেরদৌস আরা বকুল, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, সাবিকুন্নাহার মুন্নী গণমাধ্যমের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। সূত্রের দাবি, ১২ জনের তালিকায় এসব পরিচিত মুখ রয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী সাবিকুন্নাহার মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তাকে ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। টকশোতে সাবলীল বক্তৃতা করে আলোচনায় আসা জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজের নামও সদস্য হিসেবে শোনা যাচ্ছে। মারদিয়া রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

কর্মপরিষদের সদস্য রয়েছেন ছাত্রী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী খোন্দকার আয়েশা বেগম। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলীর স্ত্রী। ছাত্রী সংস্থার আরেক সাবেক সভানেত্রী ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী। ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাঈদা রুম্মান, নাজমুন নাহারও আছেন কর্মপরিষদে। জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের স্ত্রী সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম ও কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন মানিকের স্ত্রী জান্নাতুল কারীমও রয়েছেন তালিকায়।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুন্নিসা সিদ্দিকা সারাবাংলাকে বলেন, ‘দল থেকে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের পরিবারের বাইরে গিয়ে যে এলাকায় সংসদ সদস্য কম পেয়েছি অথবা সংসদ সদস্য কেউ হতে পারেননি, সংসদে সেসব জায়গার নারী প্রতিনিধি দেওয়া হবে। এতে দেশের সব অঞ্চল থেকে প্রতিনিধি সংসদে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমিরে জামায়াতকে আমরা ১২ জনের একটি তালিকা দিয়েছি। এতে কেন্দ্রীয় নেত্রী থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধি আছেন। এটি পরিবর্তনের অধিকার রাখেন আমির।’

জানা গেছে, জামায়াতের ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী রয়েছেন ২১জন। তাদের অনেকে ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেতৃত্বে ছিলেন। সম্ভাব্য তালিকায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে কয়েকজন কর্মপরিষদের সদস্য রয়েছেন।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর