শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

‘বিএনপি আদর্শের জন্য আন্দোলন করেছে, চাঁদাবাজির জন্য নয়’

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন
‘বিএনপি আদর্শের জন্য আন্দোলন করেছে, চাঁদাবাজির জন্য নয়’


ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে একটি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে। চাঁদাবাজি, লুটপাট, ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কিংবা অবৈধ অস্ত্রধারীদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিএনপি আন্দোলন করেনি। তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ অডিটোরিয়াম হলে খানকায়ে দারুল হামদ কমিটি বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত সিরাতুন নবী স. সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতনের কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে হেফাজতে ইসলামের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, ’২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরিতে আন্দোলনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শাপলা চত্বর ও মোদি বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা রাজপথে ছিলেন।

মোদি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে আলেম-ওলামা ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের অপরাধ ছিল, তারা একটি বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটি ছিল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

নিজের এক পরামর্শদাতা পীর হামিদুর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোদি বিরোধী আন্দোলনের সময় তার চার ছেলেকে একসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাকেও রক্তাক্ত করা হয়। ওই সময় তিনি রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে করণীয় জানতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করার এবং আন্দোলন ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে তাদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমানে একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন মত, ধর্ম ও পথের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেন। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই। তবে দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দলকে সম্মান জানাতে হবে। তবে তাদের কিছু কর্মসূচি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়। লং মার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় করে সেখানে পিকনিকের মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লং মার্চ করেছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপিও স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করেছে। মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পায়ে হেঁটে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

বিরোধী দলের সংসদীয় ভূমিকার সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, হাদি হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা হলে তিনি সেটিকে সমর্থন করতেন। কিন্তু এসব বিষয়ে ওয়াকআউট না করে স্থায়ী কমিটিতে কে কতজন সদস্য হবেন, সেই বিষয় নিয়ে ওয়াকআউট করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিরোধী দল অনেক সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা ভোগ করেছে। এখন একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে বিরোধী দলের আসনে গেছে। এ কারণে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি কী করেছে, তা দেশের মানুষ দেখেছে। গত ১২ জানুয়ারি জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন খাত ধ্বংস করা হয়েছে। সেখান থেকে দেশকে উত্তরণ ঘটাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভক্ত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য উদগ্রীব হলে এর সুফল অন্যরা পাবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ধনী-গরিব, দল-মত, হিন্দু-মুসলমান, পাহাড়ি-সমতল—নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা, ভূখণ্ড ও পতাকা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বাঁশের শলাকা সহজে ভেঙে ফেলা যায়, কিন্তু অনেকগুলো শলাকা একসঙ্গে থাকলে ভাঙা কঠিন। দেশের মানুষকেও সেই ঐক্যের শিক্ষা মনে রাখতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো দেশই সহজে বাংলাদেশের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে পারবে না।

নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জীবনে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি হয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের জন্যও তাঁকে সময় দিতে হচ্ছে। ছয় মাসে যতটা কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন, সবটা সম্ভব হয়নি। সামনে আরও দক্ষভাবে কাজ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন, সার্বভৌম ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চান তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ধারণ করে কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার না করে সব ধর্মের মানুষকে তাঁদের অধিকার নিয়ে বাঁচার সুযোগ দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাওদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

এ সময় বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জাতীয় ওলামায়েগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর