শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী – Sarabangla মিথ্যা মামলা, হামলা, বাড়িঘর হারিয়েও থেমে নেই সত্যের সৈনিক রিয়াজ উদ্দিন রানা প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিয়ে দর-কষাকষি হবে আনতালিয়ায় ইশতেহার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক Ghamasaan Review: Pratik Gandhi, Arshad Warsi’s Thriller Starts Slow, Builds Tension, Ends Too Soon | Bollywood News 23 years after Rakesh Yadav, Tanya Chaudhary keeps Baghpat’s hammer-throw legacy alive with national record | More sports News শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন রাজশাহীতে চুরি যাওয়া স্বর্ণের আংশিক উদ্ধার কুমিল্লায় হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় সংস্কার চলছে: ধর্মমন্ত্রী

প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিয়ে দর-কষাকষি হবে আনতালিয়ায়

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ সময় দেখুন
প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিয়ে দর-কষাকষি হবে আনতালিয়ায়


ঢাকা: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যখন আরও তীব্র হচ্ছে, তখন প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন—কপ-৩১। আসছে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত এই সম্মেলন। সম্মেলনের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে আনতালিয়া এক্সপো সেন্টার।

বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধি, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, জলবায়ু আলোচক, বিজ্ঞানী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে।

‘প্রতিশ্রুতি’ নয়, এবার বাস্তবায়ন

কপ-৩১ এর প্রস্তুতি পর্বেই তুরস্কের সভাপতিত্ব বাস্তবায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্চে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক আলোচনায় কপ-৩১ এর জন্য ‘dialogue, consensus and action’—অর্থাৎ সংলাপ, ঐকমত্য ও পদক্ষেপ—এই তিনটি মূল ভিত্তির কথা তুলে ধরা হয়। লক্ষ্য হচ্ছে প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকার এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমানো।

তুরস্কের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং কপ-৩১ এর প্রেসিডেন্ট-ডিজাইনেট মুরাত কুরুমও সম্মেলনকে বাস্তবায়নের দিকে নেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অর্থের ঘাটতি দূর করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এ কারণে আনতালিয়ার সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে জলবায়ু অর্থায়ন। কে অর্থ দেবে, কত অর্থ দেবে, কোন দেশ কতটা পাবে এবং সেই অর্থ কত দ্রুত ও সহজ শর্তে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাছে পৌঁছাবে?

একট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন

জলবায়ু অর্থায়নের প্রশ্নটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম কঠিন ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের কপ-২৯ এ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নে পৌঁছানোর একটি নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ যথেষ্ট নয়—এমন উদ্বেগ রয়েছে।

কপ-৩১ এর আগে তুরস্কের পক্ষ থেকেও প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থের এই বিশাল ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সেটিই আনতালিয়ায় বড় রাজনৈতিক দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামোতেও জলবায়ু অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস—গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি, অ্যাডাপটেশন ফান্ড এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার তহবিল—নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে।

কপ-৩১ বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম হলেও এর অভিঘাত বহন করতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলোচ্ছ্বাস, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও জীবিকার ওপর জলবায়ুর প্রভাব বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের বার্ষিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রয়োজন ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বলে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) জানিয়েছে। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বড় ধরণের অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

ফলে কপ-৩১ বাংলাদেশের জন্য কেবল আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন নয়; এটি অর্থায়ন, প্রযুক্তি, অভিযোজন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ।

ক্ষয়ক্ষতি ও ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব ক্ষতি আর কেবল অভিযোজনের মাধ্যমে ঠেকানো সম্ভব নয়, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় ‘Loss and Damage’ বা ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম দাবি হচ্ছে এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

এ জন্য ‘Fund for Responding to Loss and Damage’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করা।

বাংলাদেশের মতো দেশের কাছে তাই আনতালিয়া সম্মেলনের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হবে—এই তহবিল থেকে বাস্তবে কত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া কতটা সহজ হচ্ছে।

বাংলাদেশের নতুন জলবায়ু অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার তৃতীয় Nationally Determined Contribution বা NDC 3.0 জমা দিয়েছে। এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে ব্যবসা-স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০.৩১ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় ৬.৩৯ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে অতিরিক্ত ১৩.৯২ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের নতুন জলবায়ু পরিকল্পনার বড় অংশই আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। কপ-৩১-এ এই আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

অভিযোজন বনাম নিঃসরণ কমানো

জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে সাধারণত কার্বন নিঃসরণ কমানো বা ‘mitigation’ বেশি আলোচিত হলেও বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাছে ‘adaptation’ বা অভিযোজন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, নিরাপদ পানি, উপকূলীয় সুরক্ষা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং দুর্যোগের পর পুনর্বাসন— সবক্ষেত্রেই বড় ধরণের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

কপ-৩১ এর প্রস্তুতিমূলক আলোচনায় অভিযোজন ও সহনশীলতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, NDC এবং স্বচ্ছতা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশগুলোর জলবায়ু কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় Global Stocktake-এর সূচনা

কপ-৩১ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় Global Stocktake বা বৈশ্বিক অগ্রগতি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া। প্যারিস চুক্তির অধীনে এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ব কতটা এগিয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—তা মূল্যায়ন করা হবে।

ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (UNFCC জানিয়েছে, দ্বিতীয় Global Stocktake আনুষ্ঠানিকভাবে কপ-৩১ থেকে শুরু হবে এবং এর প্রক্রিয়া কপ-৩৩ এ ২০২৮ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রথম Global Stocktake-এর ফলাফলের ভিত্তিতেই দেশগুলোকে তাদের জলবায়ু পরিকল্পনা আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এবার সেই অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা এগিয়েছে, তার নতুন হিসাব শুরু হবে।

বিদ্যুৎ, বর্জ্য ও সবুজ অর্থনীতি

কপ-৩১ এর প্রেসিডেন্সি বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মসূচিতে তিনটি উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যও সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে চূড়ান্ত জ্বালানি চাহিদার বিদ্যুৎ দ্বারা পূরণের অংশ ২০ শতাংশের কিছু বেশি থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা, ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং ভবন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের তীব্রতা অন্তত ২৫ শতাংশ কমানো।

তুরস্ক একই সঙ্গে ‘Zero Waste’ পদ্ধতিকে কপ-৩১ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে আনছে। ফলে আনতালিয়ায় শুধু সরকারগুলোর জলবায়ু প্রতিশ্রুতি নয়, নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আসতে পারে।

তুরস্ক-অস্ট্রেলিয়ার নতুন মডেল

কপ-৩১ এর আয়োজনের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তুরস্ক সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতিত্ব করবে, আর অস্ট্রেলিয়া আলোচনার নেতৃত্ব দেবে। এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সংলাপ, আলোচনার ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া।

বিশ্ব যখন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ব্যস্ত, তখন জলবায়ু আলোচনায় ঐকমত্য তৈরি করা সহজ হবে না। ফলে কপ-৩১ এর অন্যতম বড় পরীক্ষা হবে ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলোকে একই টেবিলে রেখে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

সামনে কঠিন দর-কষাকষি

অর্থায়নের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি, কার্বন বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

বিশেষ করে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য—কে কতটা দায় নেবে এবং কে কতটা অর্থ দেবে—আবারও আলোচনার মূল জায়গা দখল করতে পারে।

এ কারণে কপ-৩১ এর সাফল্য শুধু একটি চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রের ওপর নির্ভর করবে না। বরং কত অর্থের বাস্তব প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেল, সেই অর্থ কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছাল, নতুন NDC বাস্তবায়নে কী অগ্রগতি হলো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তব পরিবর্তন কতটা নিশ্চিত করা গেল—এসব দিয়েই বিচার হবে আনতালিয়ার সাফল্য।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের জন্য কপ-৩১ এ তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন এবং Loss and Damage।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, বিদ্যমান তহবিলগুলো থেকে দ্রুত ও সহজ শর্তে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশ ঋণনির্ভর না হয়ে অনুদান ও সহজ শর্তের অর্থায়নের মাধ্যমে আসার বিষয়টিও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের দায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্ষতির বোঝা বেশি বহন করছে বাংলাদেশ। তাই আনতালিয়ায় বাংলাদেশের মূল বার্তা হতে পারে—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন ন্যায্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং দ্রুত বাস্তবায়ন।

শেষ কথা

কপ-৩১ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিও স্পষ্ট।

তাই আনতালিয়ার সম্মেলন বিশ্বকে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে পুরোনো প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করা যায়—সেই পরীক্ষার মুখোমুখি করবে।

আর বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের কাছে কপ-৩১ এর আসল সাফল্য হবে তখনই, যখন সম্মেলনের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে উপকূলের বাঁধে, নদীভাঙন রোধে, কৃষকের মাঠে, নিরাপদ পানির ব্যবস্থায়, দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জলবায়ুতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর